দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস আতঙ্কে জেরবার বর্ধমানের মুরগির মাংসের ব্যবসায়ীরা। কয়েক দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি পোস্টের দরুণ অনেকেই এখন মুরগির মাংস এড়িয়ে চলছেন।
রবিবার বা ছুটির দুপুর মানেই মধ্যবিত্ত বাঙালির পাতে থাকে মাংসের ঝোল আর ভাত। সে খাসি হোক বা মুরগি। বিশ্বজুড়ে এখন করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে বর্ধমানে যোগ হয়েছে মুরগির মাংসে আতঙ্ক। তাই অনেকেরই রবিবারের মেনু থেকে বাদ পড়েছে চিকেন। আতঙ্কের জেরে মাথায় হাত মুরগির মাংস বিক্রেতাদের। হু হু করে কমছে দাম, পাল্লা দিয়ে কমছে মাংসের বিক্রি।
রবিবার সকাল থেকেই শহরের মুরগির মাংসের দোকানের বাইরে দেখা যায় লম্বা লাইন। এই রবিবার অধিকাংশ দোকানের ভিড় উধাও। কেউ মাছি তাড়াচ্ছেন, কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। দোকানি-দোকানের কর্মী – সকলেরই রবিবার কাটল আলস্যে।
বর্ধমানের গোলাপবাগ মোড় থেকে তেলিপুকুর কিংবা ষাঁড়খানাগলি – সর্বত্র একই ছবি। দোকানে ভিড় নেই, ক্রেতা নেই মাংসের দোকানে। সপ্তাহ খানেক ধরেই বাজার মন্দা। কাঞ্চননগর উদয়পল্লি থেকে রাজবাটী ভেড়িখানা, তেঁতুলতলা বাজার – সব জায়গাতেই রবিবারের মাংসের বাজার খারাপ।
উদয়পল্লির মাংস বিক্রেতারা বলেন, কয়েক দিন আগেই ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি হচ্ছিল কিন্তু এক সপ্তাহে আচমকাই দাম কমে গেছে। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে বিক্রি কমে অর্ধেক হয়েছে। একই কথা বলছেন কাঞ্চননগরের ব্যবসায়ী বংশীবদন দত্ত।
শহরের ভেড়িখানা এলাকায় রবিবারের বাজার থাকে ব্যাপক জমজমাট। এক একটি দোকানে দিনে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ কেজি মাংস বিক্রি হয়। শহরের স্টেশন বাজার, বিসি রোড, তেঁতুলতলা বাজার-সহ একাধিক এলাকায় ঢুঁ মেরে দেখা গেল, আতঙ্কের জেরে কেজিপ্রতি দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কমে গেলেও বিক্রি কমেছে হু হু করে। গোটা মুরগি ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আর কাটা মাংস বিক্রি হচ্ছে কোথাও ১১৫ টাকা তো কোথাও ১৩০ টাকা কেজি দরে।
সম্প্রতি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি স্নায়বিক রোগের ছবি দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে মুরগির মাংস খেয়ে ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ওই রোগী বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে যদিও সেখানে গিয়ে এরকম কোনও রোগীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ছবি দেখে রোগ নির্ণয় না করা গেলেও চিকিৎসকদের কেউ কেউ বলছেন, যে ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে সেটি সম্ভবত নিউরোফাইব্রোম্যাটোসিস ডিজঅর্ডার। তবে গুজবের জেরে মার খেতে হচ্ছে মুরগির মাংসের বিক্রেতাদের।