দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালই শোনা গিয়েছিল আজ হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হতে পারে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের তরফে বুলেটিনে জানানো হয়েছে আজ তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি রাতে ভাল ঘুমিয়েছেন। তাঁর সব ধরনের মেডিক্যাল প্যারামিটার স্বাভাবিক রয়েছে। এখনও পর্যন্ত বেশ দ্রুত চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ওষুধ ও শুশ্রূষায় প্রায় সেরেই উঠেছেন তিনি।
হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদের তরফে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ছুটি দেওয়া হলেও বুদ্ধদেববাবুর সঙ্গে বাড়ি পর্যন্ত যাবেন ডাক্তার ও নার্সদের টিম। বাড়ির মধ্যে সব রকমের বন্দোবস্ত করার পরেই ফিরবেন তাঁরা।
গতকাল রাতে হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়, বুদ্ধদেববাবুর ফুসফুস স্বাভাবিক কাজ করছে। নিজেই শ্বাস নিতে পারছেন তিনি। কেবল কিছুক্ষণ সময় বাদ দিয়ে দিয়ে বাইপ্যাপ দিতে হচ্ছে। গড়ে ৯৪ শতাংশ অক্সিজেন স্যাচুরেশন রয়েছে তাঁর। রক্তচাপ, পাল্স রেট, ইউরিনের পরিমাণ-- সবই স্বাভাবিক রয়েছে। ক্যাথিটার খুলে নেওয়ার পরে স্বাভাবিক ভাবেই মূত্রত্যাগ করছেন তিনি।
জ্ঞান আগেই ফিরেছিল বুদ্ধদেববাবুর। এখন একেবারেই স্বাভাবিক কথাবার্তা বলছেন তিনি। সোমবার সকালের ব্লাড গ্যাস অ্যানালাইসিস রিপোর্টও একেবারে স্বাভাবিক। পাঁচ দিনের অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ হয়েছে তাঁর। অন্য কয়েকটি ওষুধ এখনও চলছে। যে স্টেরয়েড নলের ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছিল, তা গতকাল থেকে মুখেই খেতে শুরু করেন বুদ্ধদেববাবু।
তাঁর রাইলস টিউব খুলিয়ে সামান্য খাবার এবং ফল দেওয়া হয়েছিল রবিবারই। সে খাবার হজম করতে কোনও সমস্যা হয়নি তাঁর। তারপর থেকে নিজেই চিবিয়ে খাবার খেয়েছেন তিনি। তবে রাইলস টিউব এখনই খোলা হচ্ছে না, কারণ যদি আবারও তাঁর খাওয়া কমে যায়, তখন এই টিউবের মাধ্যমে খাওয়ানো সম্ভব হবে।
৯ তারিখ দুপুর সওয়া দুটো নাগাদ মারাত্মক শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বুদ্ধদেববাবুকে। তার আগে থেকেই অ্যাকিউট সিওপিডি ছিল তাঁর। ভর্তির সময়ে যে অবস্থা ছিল, তার থেকে বর্তমানে অনেকটাই স্বাভাবিক তিনি। তাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার দরকার নেই বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।