দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান. ছত্তীসগড় নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে যখন টালবাহানা করছিলেন মায়াবতী, তখন ১৫ নম্বর গুরুদ্বারা রেকাবগঞ্জ রোডে কংগ্রেসের ওয়াররুমে ডাকা বৈঠকে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, 'জোটের আশা ছাড়ুন। কংগ্রেস নিজের দমে ভোট লড়বে'।
হিন্দিবলয়ের তিন রাজ্যে জয়ের পর সেই কংগ্রেস সভাপতি এখন আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছেন। শনিবাসরীয় বিকেলে ১২ নম্বর তুঘলক লেনে তাঁর বাসভবনে গিয়ে রাহুলের সঙ্গে দেখা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম রাহুলের সঙ্গে বাংলার পরিস্থিতি এতো বিস্তৃত আলোচনা হল সোমেনবাবুর।
বৈঠক সেরে বেরিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জানিয়ে দেন, " বাংলায় কংগ্রেসের রাজনৈতিক লাইন নিয়ে কোনও ধন্ধ নেই। রাহুলের সঙ্গে কথা হয়েছে। অগণতান্ত্রিক তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।" বৈঠকে সোমেনবাবু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সম্পাদক ও বাংলার পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তৃণমূলের চরিত্র রাহুল গান্ধী ভালমতো জানেন। দিল্লিতে মিষ্টি মিষ্টি কথা বললেও তিন রাজ্যের ভোটে জয়ের পর কংগ্রেসকে অভিনন্দন পর্যন্ত জানাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।" গৌরব জানান, সভাপতির সঙ্গে আলোচনায় ঠিক হয়েছে জানুয়ারি মাস জুড়ে বাংলায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন গড়ে তুলবে কংগ্রেস। তার ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিগেডে সমাবেশ হবে। ওই সমাবেশে বক্তৃতা দেবেন রাহুল গান্ধী। পরে সোমেনবাবু জানান, রাহুলের সুবিধা অসুবিধার কথা জেনে ব্রিগেডের সমাবেশের দিন স্থির করা হবে।
এ দিনের বৈঠকের পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির কাছে প্রশ্ন করা হয়, লোকসভা ভোটে কি একা লড়বে কংগ্রেস? নাকি জোট গঠনের চেষ্টা করবে। সোমেনবাবু সরাসরি জবাব এড়িয়ে বলেন, বাংলায় কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে হবে। সেটাই একমাত্র লক্ষ্য। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, বাংলায় এখন কংগ্রেসের চারটি আসন রয়েছে। উনিশের ভোটেও খুব কম করে চারটি আসনে জিতব।
https://twitter.com/SomenMitraINC/status/1046025425585983488
কিন্তু বাংলায় কংগ্রেসের দুই সাংসদ যে তৃণমূলের দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন? জবাবে সোমেনবাবু বলেন, ও সব জানি না। তবে কমে করে চারটি আসনে কংগ্রেস জিতবেই।
কংগ্রেস শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, এ দিনের বৈঠকে সোমেন-গৌরবকে রাহুল জানিয়ে দিয়েছেন, জোটের ব্যাপারে রাজ্য নেতারা যা চাইবেন তাই হবে। দিল্লি থেকে কিছুই চাপিয়ে দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে গত তিন বছর ধরে যে অবস্থান নিয়ে চলছি তাতে কোনও পরিবর্তন হবে না।
সন্দেহ নেই, সোমেন মিত্র, আবদুল মান্নান, অধীর চৌধুরী, দীপা দাশমুন্সির মতো নেতা নেত্রীরা কেউই তৃণমূলের সঙ্গে জোট চান না। তা ছাড়া তৃণমূল একাই ৪২ টি আসন লড়ার পক্ষে। কিন্তু একই সঙ্গে সোমেন মিত্র-আবদুল মান্নানরা বুঝতে পারছেন, একা লড়ে কোনও সুবিধা হবে না। দক্ষিণবঙ্গে আরও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে কংগ্রেস। তুলনায় বিধানসভা ভোটের মতই সিপিএমের সঙ্গে যদি জোট হয়, তা হলে মোদীকে ঠেকাতে সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ কংগ্রেসের পাশে থাকবে। সে ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে অন্তত ১০ টি আসনে কংগ্রেস-সিপিএম জোট লড়াইয়ে থাকবে বলেই তাঁদের মত। এবং এই বিষয়টিও এ দিন রাহুলকে জানানো হয়েছে বলেই খবর। এ ব্যাপারে সীতারাম ইয়েচুরি, সূর্যকান্ত মিশ্রদের থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিতের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।