দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলীয় কর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে মালদহের চাঁচল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। মিছিল করে বুধবার সকালে চাঁচল থানার সামনে হাজির হন বিজেপির নেতাকর্মীরা। ছিলেন উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুও। পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে স্থানীয় বিজেপি কর্মী প্রসেনজিৎ শর্মাকে পুলিশের গ্রেফতার করার প্রতিবাদে ও তাঁর মুক্তির দাবিতে চলতে থাকে বিক্ষোভ।
দিন কয়েক আগে চাঁচলের থানাপাড়া এলাকার রাস্তা বেহাল থাকায় প্রতিবাদে সরব হন স্থানীয় বিজেপি কর্মী প্রসেনজিৎ শর্মা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাস্তার মধ্যেই ‘মাছ ধরো’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল প্রসেনজিতের নেতৃত্বে। এখান থেকেই বিবাদের সূত্রপাত। রাস্তায় মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে গণ্ডগোল বেধে যায় বিজেপির। এর পরে দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ বিজেপি কর্মী প্রসেনজিৎ শর্মাকে গ্রেফতার করে।
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছিল সে ব্যাপারে পুলিশ কোনও রকম পদক্ষেপ করেনি। মূলত পুলিশের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে ও দলীয় কর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা থানা ঘেরাও করে।
দলীয় কার্যালয়ে বুধবার সকালে জড়ো হওয়ার পরে সাংসদের নেতৃত্বে বিজেপি শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ মিছিল করে। তাতে হাজির ছিলেন বিজেপির জেলা সম্পাদক দীপঙ্কর রাম, সুভাষকৃষ্ণ গোস্বামী প্রমুখ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করার পরে তাঁরা থানায় হাজির হন। সেখানে সাংসদ খগেন মুর্মুর-সহ বিজেপি নেতৃত্ব চাঁচল থানার সুকুমার দাসের সঙ্গে কথা বলেন। তার পরে থানার বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ করেন।
সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, “পুলিশ এখন শাসকদলের দলদাসে পরিণত হয়েছে। বেহাল রাস্তার প্রতিবাদ করার জন্য আমাদের দলের কর্মী প্রসেনজিৎ শর্মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই দিন তৃণমূলের গুন্ডারা ওই বিজেপি কর্মীর বাড়ির ভিতরে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযোগ দায়ের করার পরেও তৃণমূল কংগ্রেসের ওই গুন্ডাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টে আমাদের দলের কর্মী প্রসেনজিৎ শর্মাকে গ্রেফতার করেছে। অবিলম্বে বিজেপি কর্মীকে মুক্তি দিতে হবে আর এই ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূলের তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করতে হবে। প্রসেনজিৎ ছাড়া না পেলে এবং তৃণমূলের তিন নেতাকে গ্রেফতার করা না হলে এর পরে থানার সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থানে বসব। পুলিশ প্রশাসনের সব কাজ বন্ধ করে দেব।”
তৃণমূলের চাঁচল ১ নম্বর ব্লকের সভাপতি সচ্চিদানন্দ চক্রবর্তী বলেন, “আমরা পুলিশকে চাপ দিতে যাব কেন? অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। বিজেপি নেতা রাস্তায় জল ফেলে সমস্যা তৈরি করেছিল।” চাঁচলের এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, “বিজেপির অভিযোগ থাকলে সেটাও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ঠিক নয়।”