দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেই বোধ হয় বলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। এক সময়ে বাংলায় বাম সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কখনও রাষ্ট্রপতির কাছে কখনও বা তৎকালীন উপ প্রধানমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীর কাছে ঘন ঘন অভিযোগ জানাতে যেতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন কেন্দ্রের শাসক জোটে বিজেপির শরিক তিনি।
এখন সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে রাষ্ট্রপতি সকাশে বিজেপি। অভিযোগ, বাংলায় জঙ্গলরাজ কায়েম করে রেখেছে তৃণমূল।
জমি নেওয়ার প্রতিবাদ করায় গত শুক্রবার গঙ্গারামপুরে শিক্ষিকা স্মৃতিকণা দাস ও তাঁর বোনকে মাটিতে ফেলে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতা। মঙ্গলবার সেই ঘটনা নিয়েই বিহিত চেয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। গঙ্গারামপুরের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, ছবি-সহ অভিযোগ জানানো হয় রাষ্ট্রপতির কাছে।
গতকালই বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন, গঙ্গারামপুরে যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি সংসদে তুলবেন। কিন্তু সংসদে তোলার আগেই এদিন রাষ্ট্রপতির কাছে গেল গেরুয়া শিবির।
রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “গঙ্গারামপুরে দুই মহিলার উপর খোলা রাস্তায় যে ভাবে অত্যাচার করেছে ওখানকার তৃণমূলের নেতারা তা কোনও সভ্য সমাজে হয় না। আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে সবটা জানিয়েছি।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়েও আমাদের যা বলার বলেছি।”
বিজেপি নেতাদের রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়া নিয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মহিলাদের নিরাপত্তা কেমন সেটা আগে দেখুক। কোনও কাজ নেই তাই রাষ্ট্রপতি ভবনে গেছে।”
বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে কথা বলছেন তাও কোনও সভ্য সমাজে কোনও মন্ত্রী বলতে পারেন না। অন্য কোথাও মহিলার উপর যদি ঘটেও থাকে তা দিয়ে গঙ্গারামপুরের ঘটনাকে ‘জাস্টিফাই’ করা যায়কি! মহিলাদের প্রতি সম্মানবোধ ও বিন্দুমাত্র স্পর্শকাতরতা থাকলে এ কথা বলা যায় না।
গত শুক্রবার গঙ্গারামপুরে এই ঘটনা ঘটে। পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা শিক্ষিকা। তিনি এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসেবেও পরিচিত। পুলিশ এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। মূল অভিযুক্ত স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা অমল সরকার গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গয়েছে। যে পাঁচজনের নামে থানায় অভিযোগ হয়েছে, তাদের মধ্যে আবার দু’জন খুনের মামলায় জামিনে রয়েছে বলে দাবি ওই শিক্ষিকার। অমল সরকারকে সাসপেন্ডও করেছে তৃণমূল। নির্যাতিতা শিক্ষিকা স্মৃতিকণা দাস বলেন, “রাস্তা তৈরির জন্য ১২ ফুট জমি নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল আমাদের। আপত্তি করিনি। কিন্তু পরে দেখি প্রায় ২৪ ফুট জমি নিয়ে নিচ্ছে। তখন প্রতিবাদ করাতেই এমন বর্বর অত্যাচার।”
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের সুবিধা হল, বিজেপিতে কোনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেই। অতীতে বাম জমানায় এ ধরনের ঘটনা নিয়ে মমতা যে রকম আপসহীন লড়াই করেছেন, তেমন কেউ নেই গেরুয়া শিবিরে। নমঃ নমঃ করে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দিলীপবাবুরা কতটা চাপ তৈরি করতে পারবেন তা নিয়েও তাই সংশয় রয়েছে।