দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: পুলিশ লকআপে এক নাবালকের মৃত্যুর ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, লকআপে মৃত ওই কিশোর একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিল। তাকে লকআপে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় শনিবার ১২ ঘণ্টার মল্লারপুর বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে এই ঘটনায় সিআইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
পুলিশ হেফাজতে দলীয় কর্মীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার ১২ ঘণ্টার মল্লারপুর বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, পুলিশ লকআপে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে তাঁদের কর্মীকে। যতদিন না এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তি হচ্ছে ততদিন বিক্ষোভ দেখাবেন তাঁরা। এই রাজ্যে পুলিশ শাসক দলের নির্দেশে কাজ করছে। তাই এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, মৃত কিশোরের নাম শুভ মেহেনা। তার বাড়ি মল্লারপুরের রেলপাড়ে। তার পরিবারের দাবি, সপ্তমীর রাতে মোবাইল ফোন চুরির মিথ্যা অভিযোগে মল্লারপুর থানার পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। সেই থেকে থানাতেই ছিল সে। শুক্রবার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন পুলিশ হেফাজতেই মৃত্যু হয়েছে ওই কিশোরের। তাঁরা অভিযোগ করেন, লকআপে নিয়ে তাকে পুলিশ পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।
শুক্রবার সকাল থেকে এই নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মল্লারপুর। মল্লারপুরের বাহিনা মোড়ে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অরবোধ করেন এলাকার মানুষ। পরিবারের দাবি পুলিশের মারে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তারপরেই পুলিশ পরিবারকে জানায়। এরপর ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। মৃত নাবালকের জেঠিমা পার্বতী মেহেনা বলেন, “সপ্তমীর দিন পুলিশ তুলে নিয়ে যায় ওকে। আমরা গত বৃহস্পতিবার থানায় গেলে ও বলে আমাকে এখান থেকে বের করো, নাহলে আমি মরে যাব। আজ ওর মারা যাওয়ার খবর জানতে পারলাম। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।’’
পুলিশ অবশ্য পিটিয়ে মারার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি শুক্রবার শৌচাগারে যাওয়ার কথা জানায় কিশোর। তাকে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়ার পরে বেশ কিছুক্ষণ দরজা না খোলায় দরজা ভেঙে দেখা যায় গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে সে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। বীরভূমের পুলিশ সুপার শ্যাম সিং বলেন, “নিয়ম মতো মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।’’
অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব পুলিশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, গত পাঁচ-ছয় মাসে ওই থানায় আরও তিন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। তাই থানার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের দাবি জানাচ্ছি আমরা। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উচিত প্রশাসনের, এমনটাই দাবি তৃণমূলের।