দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে যখন উমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে একের পর অভিযোগে তৃণমূলকে বিধ্বস্ত করেছে বিজেপি তখন উত্তরবঙ্গেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফের কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠল। এবার তাদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পে টাকা নেওয়ার উভিযোগ তুলেছেন এক বিজেপি সাংসদ।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে 'টাকা খাওয়ার' অভিযোগ তুলেছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। নিজের অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য ভিডিও ক্লিপিংসও তুলে দেন সাংবাদিকদের হাতে। যদিও তার সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি।
বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, দক্ষিণ দিনাজপুরে স্বচ্ছ ভারত প্রকল্প যে সব শৌচাগার নির্মাণের কাজ নতুন করে শুরু হয়েছে তাতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে সরাসরি ‘পার্সেন্টেজ’ চেয়ে বসেছেন তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন কার্যকরী জেলা সভাপতি তথা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের মেন্টর শুভাশিস পাল ওরফে সোনা পাল। অভিযুক্তকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তিনি যে ভিডিও এদিন সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন তাতে দেখা যাচ্ছে শুভাশিস পাল ঠিকাদারদের কাছে শতাংশ হিসাবে টাকা চাইছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বলছেন দলের উপর তলা পর্যন্ত সকলকে এই টাকা দিতে হয়। বিভিন্ন আমলাদেরও এই ‘পার্সেন্টেজ’ দিতে হয়।
এদিন বিজেপির তোলা কাটমানির এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষ জানান, “ওই ভিডিও ক্লিপিংস আমারও নজরে এসেছে। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হবে।” পাশাপাশি তিনি জানান, এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে, তা কোনও মতেই বরদাস্ত করবে না দল। আগেই শুভাশিস পালকে কার্যকরী সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে। ভিডিওর সত্যতা জানা গেলে দল তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।
আগে দক্ষিণ দিনাজপুরে দুজন কার্যকরী সভাপতি ছিলেন। শুভাশিস পাল (সোনা পাল) ও দেবাশিস মজুমদার। জেলার তৃণমূল পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করে তাঁদের দু’জনকে সরিয়ে গঙ্গারামপুরের বিধায়ক গৌতম দাসকে সেই দায়িত্ব দেন। তৃণমূলের অন্দরে খবর, জেলা পরিষদের মেন্টর হয়ে শুভাশিস পালের নীল বাতি লাগানো গাড়ি করে ঘোরা দলের পছন্দ হয়নি। তাছাড়া হরিরামপুর ব্লকের এক প্রধানকে মারধরের অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেছিলেন, দলে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দায়িত্ব দেওয়ার জন্যই এই বদল। তখন শুভাশিস পালকে হরিরামপুর বিধানসভা অঞ্চলের আহ্বায়ক করা হয়।
শুভাশিস পাল হরিরামপুরে দাপুটে নেতা বলে পরিচিত। বিপ্লব মিত্র তৃণমূলের জেলা সভাপতি থাকাকালীন তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন। অর্পিতা ঘোষ সভাপতি হলে তিনি আবার স্বমহিমায় দলে ফিরে আসেন।