দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদ্যুতের বিল মকুবের দাবিতে শুক্রবার পুরো রাজ্যের পাশাপাশি হাওড়া জেলা জুড়ে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। তারা বিদ্যুৎ দফতরের বিভিন্ন অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়ে অফিসের প্রধানকে স্মারকলিপি দেয়।
হাওড়া ময়দানে সিইএসসি অফিসের বাইরে এদিন দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির দুই রাজ্যনেতা সায়ন্তন বসু ও সঞ্জয় সিং। অপ্রত্যাশিত মাসুল বৃদ্ধির বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিবাদে শামিল হন। এদিন তাঁরা সিইএসসির প্রধান ফটকে তালা লাগানো চেষ্টা করেন। সংস্থার চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কার কুশপুতুল পোড়ায় বিজেপি। পাশাপাশি তারা বিদ্যুতের বিলও পোড়ায়।
সায়ন্তন বসু বলেন, “দেশের মধ্যে এখন ইউনিট পিছু বিদ্যুতের মাসুল সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসকে এখন টাকা দিচ্ছে সিইএসসি। আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি কিনতেন গৌতম কুণ্ডু, সুদীপ্ত সেনরা। এখন সেই ছবি কিনছেন গোয়েঙ্কারা। সেই টাকা গ্রাহকদের ঘাড়ে চাপিয়ে বিদ্যুতের বিল বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, “এরা সব সময়ই নেতিবাচক কথা বলে। সিইএসসির বিদ্যুতের বিল নিয়ে মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছেন – বিল দিতে হবে না। সুতরাং বিল দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তিনি সিইএসসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিল যাতে না নেওয়া হয় সে জন্য বলেছেন এবং বিল কম করার কথা বলেছেন। আমরা এই বিল বাড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা মানুষের সঙ্গে আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও টালির চালের বাড়িতে থাকেন। তাঁর নামে মিথ্যা বললে কেউ বিশ্বাস করবে না।”
উলুবেড়িয়ার মনসাতলায় বিক্ষোভের সময় হাওড়া গ্রামীণ বিজেপি জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ মণ্ডল বলেন, “স্মারকলিপি দিয়ে আমরা জানাতে চাইছি যে তিন মাস লকডাউনের ফলে সাধারণ মানুষ কাজকর্ম হারিয়ে বাড়িতে বসেছিলেন সেই তিন মাসের বিদ্যুতের বিল মকুব করতে হবে। যে সব গ্রাহকের বিল দুই থেকে তিন গুণ বাড়িয়ে পাঠানো হয়েছে সেগুলিও কমিয়ে সঠিক বিল দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে তিন মাস আগেও যুব মোর্চার পক্ষ থেকে বিদ্যুতের বিল মকুবের দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। তাই এবার তারা রাজ্য জুড়ে বিদ্যুতের অফিসে অফিসে বিক্ষোভ দেখায়। বিজেপির দাবি, রাজ্যের মানুষের সমস্যার কথা জানানোর জন্যই তাঁদের এই বিক্ষোভ। বিজেপি মনে করে গত তিন মাসে এ রাজ্যের বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। সাধারণ গরিব পরিবারের পক্ষে এখন অন্নের সংস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সুরজিৎ মণ্ডল বলেন, “এই অবস্থায় তিন মাস পরে যখন লকডাউন উঠছে তখন অল্প সংখ্যক মানুষ কাজে বের হতে পেরেছেন। ঠিক এই সময় দেখলাম বহু পরিবারে পরিবারে বিদ্যুতের বিল পৌঁছে গেছে। কোনও বিল দ্বিগুণ, কোনও বিল তিনগুণ।”