দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে তৃণমূল নেতা ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দিয়েছিল তাঁর মাকে, সেই নেতার ভাইপোর বিরুদ্ধেই নিহতের নিকট আত্মীয়কে দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে। এক দিনের ব্যবধানে এই দুই ঘটনায় আতঙ্কে বাগনানের মৃতার পরিবার, ওই ছাত্রী ও তাঁর পরিবারের লোকজন। পুলিশের সামনে মৃন্ময় দত্ত নামে এক জনকে কুপিয়ে কী ভাবে কুশ বেরার ভাইপো তন্ময় বেরা পালিয়ে গেল সেই প্রশ্নও তুলছে নিহতের পরিবার। এখনও পলাতক অভিযুক্ত ধরা পড়েনি।
মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা গোপালপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী কুশ বেরা গাছ বেয়ে ছাদে নেমে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করতে যায়। অভিযোগ, চিৎকার শুনে তাঁর মা ছাদে চলে এলে তাঁকে সেখান থেকে ঠেলে ফেলে দেয় ওই তৃণমূল নেতা ও তার শাগরেদ।
এক দিন পরে দেহ নিয়ে ওই নেতার বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে নিহতে নিকট আত্মীয় কলেজ পড়ুয়াকে বীভৎস ভাবে কোপানো হয়। তার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত তন্ময় বেরা। পুলিশের সামনেও যদি পরিবারের নিরাপত্তা বলে কিছু না থাকে তা হলে বাড়ি থেকে বের হলে কেউ তাঁর মুখে অ্যাসিড ছুড়বে না তো! এমন আশঙ্কার কথা জানালেন নিহতের মেয়ে। তিনি দোষীদের কঠোরতম শাস্তির চেয়েছেন।
তবে এদিন বিজেপি নেত্রী তথা আইনজীবী নাজিরা এলাহি এলাকায় গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের লঘু ধারায় মামলা করার অভিযোগ করেছেন। ওই মামলা তিনি লড়বেন বলে কিশোরীকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র ৫১১ ও ৩০২ ধারায় পুলিশ মামলা করেছে। অন্য কোনও ধারা যোগ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।” হত্যার মামলায় ৩০২ ধারায় মামলা হয় এবং সাধারণ অপরাধেও ৫১১ ধারায় মামলা করা হয়। কিন্তু ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা, একজনকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ ভাবে অসৎ উদ্দেশে অন্যের বাড়িতে প্রবেশের মতো অপরাধের কোনও ধারা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
নিহতের পরিবারে অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন তাঁদের নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা করেনি। পুলিশের উপস্থিতিতে ছেলেকে কোপানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আহত মৃন্ময় দত্তর মা কেয়া দত্ত। তিনি বলেন, “আমরা পাঁচ ঘণ্টা ধরে অপারেশন করে ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়েছি। কিন্তু এখন আমরা আতঙ্কে রয়েছি। মনে হচ্ছে বেরোলেই যদি আমাদের ওপর হামলা করে, আমাদের মেরেও ফেলতে পারে।”
এদিন সিপিএমের মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে ওই এলাকায় প্রতিবাদ সভা করা হয়। সেখানে বিক্ষোভও দেখানো হয়।