দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ফের এক হাতির বাচ্চা উদ্ধার হল জলপাইগুড়ির মালবাজারের একটি চা বাগান থেকে। স্থানীয় বাসিন্দারা হাতির বাচ্চাটিকে দেখতে পেয়ে খবর দেন বন দফতরে। বন দফতরের কর্মীরা হাতির বাচ্চাটিকে নিয়ে যান গরুমারা পিলখানায়।
সূত্রের খবর, শনিবার রাতে ভুট্টাবাড়ির জঙ্গল থেকে ১১টি হাতির একটি দল ঢুকে পড়ে জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের মানাবাড়ি চা বাগানে। রাতভর সেখানে তাণ্ডব চালায় তারা। তারপর ভোরের আলো ফুটতেই হাতির দলটি ভুট্টাবাড়ি জঙ্গলে ফিরে যায়। কিন্তু তখনই দলছুট হয়ে যায় দু’মাসের একটি হাতির বাচ্চা।
রবিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন চা বাগানের মধ্যে হাতির বাচ্চাটি ঘোরাঘুরি করছে। সঙ্গে সঙ্গে খবর চাউর হয়ে যায়। চা বাগানে উপচে পড়ে মানুষ। খবর যায় বন দফতরে। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে এসে উপস্থিত হয় মালবাজার, তারাঘেরা ও নোয়াম রেঞ্জের কর্মীরা। ভিড় সামলাতে সেখানে আসে মালবাজার থানার পুলিশ।
বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় হাতির বাচ্চাটিকে উদ্ধার করেন বন দফতরের কর্মীরা। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গরুমারা পিলখানায়। নতুন অতিথির আগমনে আনন্দ গরুমারা পিলখানায়। নাওয়া খাওয়া ভুলে সবাই মেতে উঠেছেন নতুন অতিথিকে নিয়ে।
এই ঘটনার পরে গরুমারা ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের অ্যাসিস্টান্ট ডিএফও জন্মেজয় পাল বলেন, “মানাবাড়ি চা বাগান এলাকা থেকে একটি হাতির ছানা উদ্ধার করা হয়েছে। বয়স দু’মাসের মতো। বাচ্চাটি মেয়ে। কিন্তু একবার যেহেতু মানুষের সংস্পর্শে বাচ্চাটি এসেছে তাই তাকে আর হাতির দল ফিরিয়ে নেবে না। তাই আমরা ওকে উদ্ধার করে গরুমারা পিলখানায় নিয়ে এলাম। হাতির বাচ্চাটিকে ভাল করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা হবে। তারপর চিকিৎসকের নির্দেশ অনুসারে পিলখানার মাহুত ও অন্যান্য বন কর্মীরা তার লালন-পালন করবে।”
তবে হাতির বাচ্চাটির খবর পেয়েই সেখানে জড়ো হয় অনেক মানুষ। অনেকের মুখে মাস্কও ছিল না। ডুয়ার্সের একটি পরিবেশ প্রেমী সংগঠনের সদস্য নফসর আলি জানিয়েছেন, এভাবে ভিড় করে হাতির বাচ্চাটিকে দেখতে আসার ফলে করোনা সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা বেড়েছিল সেখানে। উপস্থিত জনতা বাচ্চাটিকে বিরক্ত করছিল। এতে বাচ্চাটি উত্তক্ত হচ্ছিল। সেটা ঠিক নয়। বন্য জন্তুদের সঙ্গে কী ভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের জানা উচিত বলেই জানিয়েছেন তিনি।