দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে রাজ্য সরকার যে বিরোধিতার অবস্থান নিয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। একটি ভিডিও বার্তায় রাজ্য সরকার, শিক্ষামন্ত্রী ও শাসকদলের উদ্দেশে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন আসানসোলের সাংসদ।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিতে নতুন শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তা পাশ হওয়ার পর বেশ কিছুদিন নীরব ছিল তৃণমূল তথা রাজ্য সরকার। গত ৩ অগস্ট সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "কেন্দ্রের নয়া শিক্ষা নীতি নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। আমরা লিখিত আকারে সেটা কেন্দ্রকে জানিয়েছিলাম। নতুন শিক্ষানীতি চালু করতে গেলে আগে অনেক কিছু করতে হবে। পাঁচ বছরে এই শিক্ষানীতি চালু করা সম্ভব নয়।”
https://twitter.com/SuPriyoBabul/status/1291780065831743488
তা ছাড়া একটি কমিটিও গড়েছে রাজ্য। শিক্ষাবিদ সৌগত রায়, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি, সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী, অভীক মজুমদার, পবিত্র সরকার এবং সুরঞ্জন দাসকে নিয়ে গঠিত কমিটি আগামী ১৫ অগস্টের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে বলেও জানিয়েছেন পার্থবাবু।
এ নিয়েই বাবুল বলেন, বিরোধিতা করা হবে সেটা আগে ঠিক হয়ে গিয়েছে। তারপর কমিটি গড়া হয়েছে কোন কোন জায়গায় বিরোধিতা করা হবে তা ঠিক করার জন্য। কটাক্ষ করে আসানসোলের সাংসদ বলেন, "শিক্ষামন্ত্রী যখন এইসব ঘোষণা করেন তখন বোঝেন না যে, আসলে তিনি কতটা হাস্যাস্পদ হচ্ছেন!" তাঁর কথায়, "তৃণমূল সবেতেই বিরোধিতা করে। সবচেয়ে বড় কথা ওরা বাংলার জনগণের বিরোধিতা করে!"
বাবুল আরও বলেন, "কমিটির সদস্যদের সম্পূর্ণ মর্যাদা জানিয়েই বলছি, কী রিপোর্ট লিখতে হবে তা মাননীয়ার অনুপ্রেরণায় আগে থেকেই লিখে দেওয়া হয়েছে।" কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আরও দাবি, "বিদগ্ধ শিক্ষাবিদরা বসেই এই নীতি তৈরি করেছেন।"
ইতিমধ্যেই একাধিক শিক্ষাবিদ, সংগঠন, রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, সরাসরি শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করার ছক কষা হয়েছে। তাদের কারও অভিযোগ, এই শিক্ষানীতি আসলে শিক্ষায় গেরুয়াকরণের ব্লুপ্রিন্ট, কেউ বা বলছেন, এর পর উচ্চ শিক্ষা পাওয়া মধ্যবিত্তের ঘরের ছেলেমেয়েদের নাগালের বাইরে চলে যাবে। বাংলায় শাসক দলের নেতারা বলছেন, শিক্ষানীতি নিয়ে রাজ্যের কেন আপত্তি তা ঠিক করবেন শিক্ষাবিদরা। কেন্দ্রীয় সরকার যাঁদের বিদগ্ধ বলছে, তাঁরা আসলে সঙ্ঘের কাছে বিদগ্ধ। ফলে বোঝাই যাচ্ছে কারা এর পিছনে রয়েছেন। আবার সর্বভারতীয় রাজনীতিতে অন্যতম বিরোধী দল কংগ্রেসেন বক্তব্য, এই নীতি যতটা উচ্চাকাঙ্খী দেখতে লাগছে বাস্তবে ততটা নয়। এর বাস্তবায়ণ কী হবে তার স্পষ্ট রূপরেখা বলা হয়নি। মানব সম্পদ বিকাশের মৌলিক লক্ষ্য থেকে এই নীতি বিচ্যূত হয়েছে। তবে এটাও তাৎপর্যপূর্ণ যে, কী ভাবে তা বিচ্যূত হয়েছে বা কেনই মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা কংগ্রেসও দেয়নি।
তা ছাড়া বিরোধীরা যেমন রাজনৈতিক ভাবে নয়া নীতির সমালোচনা করছেন, তেমনই দেখা গিয়েছে শিক্ষাবিদদের মধ্যে থেকে অনেকে এর প্রশংসাও করছেন। তাঁদের মতে, নয়া নীতিতে ছাত্র ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সহায়ক হবে। বিষয় নির্বাচন, তা নিয়ে পঠনপাঠন গবেষণার সুযোগ বাড়বে। তাঁদের এও বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার স্কুল-কলেজ স্তর পর্যন্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে ভরতুকি দেয়। ফলে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত বিপন্ন হয়ে পড়বে এমন আশঙ্কারও বিশেষ ভিত নেই।