
শেষ আপডেট: 3 January 2021 05:06
গত মাসেই বাংলার চার জেলা থেকে চব্বিশ জন সংখ্যালঘু নেতা হায়দরাবাদে গিয়ে ওয়াইসির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে স্থির হয়, সম্ভাব্য কত আসনে প্রার্থী দেওয়া যাবে তা নিয়ে যেন এখন থেকে সমীক্ষা করা হয়। তার পর পরই একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক মন্তব্যের বিরোধিতা করে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ওয়াইসি।
উত্তরবঙ্গের এক সভা থেকে মমতা বলেছিলেন, "সংখ্যালঘুদের ভোট ভাগ করার জন্য একটা হায়দরাবাদের পার্টি ডেকে এনেছে। সেই পার্টিটা এখানে কয়েকটাকে জোগাড় করেছে। বিজেপি ওদের টাকা দেয়। বিহারেও ওরা তাই করেছে। ওরা বিজেপির বি-টিম।"
তার বিরোধিতা করে মিম প্রধান বলেন,"ওয়াইসিকে টাকা দিয়ে কিনে নিতে পারে এমন বান্দার এখনও জন্ম হয়নি। আমায় কেউ কিনতে পারবে না।" তিনি এও বলেন, "সংখ্যালঘু ভোট কারও জমিদারি নয়! এত দিন আপনি শুধু মীরজাফরদের দেখেছেন। যাঁরা আপনার অনুগত হয়ে ছিলেন এবং শুধু নিজেদের কথাই ভেবেছেন। কিন্তু মুসলিমদের কথা আপনি আদতে ভাবেননি। তাঁদের প্রকৃত উন্নয়ন করেননি।”
স্বভাবগত ভাবেই আব্বাস ক্ষুরধার। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের সমালোচনায় অহোরাত্র মুখর। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা যেমন দুই চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। আবার ওয়াইসি সংখ্যালঘুদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়। তিনিও নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উগ্র বিরোধী। তাঁর মোদ্দা বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের চেষ্টা দেশের কোনও রাজনৈতিক দলই করেনি। শুধু তাঁদের ভুল বুঝিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা হয়েছে। বাংলাতেও সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। যা হয়েছে, তা কেবলই ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি।
এই দুই সংখ্যালঘু শক্তি একজোট হলে শাসক দলের সংখ্যালঘু জনভিত্তিতে ভাগ বসাতে পারে এমন আশঙ্কা ও সম্ভাবনার কথা অনেকেই বলছেন। তবে মিম নেতাদের বক্তব্য, তাঁদের উদ্দেশ্য শুধু ভোট কাটুয়া পার্টি হিসাবে পরিচিত লাভ নয়। ভারতবর্ষে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বিপুল। অথচ আইনসভায় তাঁদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নেই। সেই কারণেই সর্বভারতীয় স্তরে সংখ্যালঘুদেরও এবার একজোট হওয়ার সময় আসন্ন।