দ্য ওয়াল ব্যুরো: নার্সিং কোয়ার্টার্সের পরে এবার ময়নাগুড়ির চূড়াভাণ্ডার প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রের আলমারির পাশ থেকে উদ্ধার করা হল একটি গোখরো সাপ। এই নিয়ে গত সাত দিনে দু’টি স্পেকটিক্যালড কোবরা উদ্ধার হল একই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে।
বুধবার এক স্বাস্থ্যকর্মী ওই আলমারি থেকে ওষুধ বের করতে গেলে ফোঁস করে ওঠে সাপটি। কিসের শব্দ হচ্ছে তা ভাল করে শোনার জন্য আলমারির পাশে তাকাতেই হাড় হিম হয়ে যায় ওই স্বাস্থ্যকর্মীর। তিনি দেখেন কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে বিশাল মাপের একটি গোখরো সাপ। ভয় পেয়ে সেখান থেকে তিনি ছুটে পালিয়ে যান। তখনই হাসপাতাল থেকে খবর দেওয়া হয় ময়নাগুড়ির পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক নন্দু রায়কে।
নন্দু রায় বলেন, “বুধবার দুপুরে আমার কাছে চূড়াভাণ্ডার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ফোন আসে। আমরা ছুটে আসি। এসে দেখি আলমারির পাশে লুকিয়ে আছে একটি স্পেকটিক্যালড কোবরা। সেটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনায় হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার সব্যসাচী সরকার বলেন, "আমাদের স্টোর রুম থেকে একটি স্পেকটিক্যালস কোবরা উদ্ধার করেন নন্দু রায়। এই নিয়ে গত সাত দিনে দুটি এই জাতীয় সাপ এখান থেকে উদ্ধার করলেন তিনি।"
গত ৭ জুলাই এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্সিং কোয়ার্টার্সে বেসিনের পাইপ বেয়ে নামছিল একটি একই জাতের সাপ। তা দেখে চিৎকার করে ছুটে পালান এক নার্স। সেবারও নন্দু রায়ের লোকজন সাপটিকে উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
তার আগের দিনই জলপাইগুড়ির পাঙা বটতলা ইকোসিটি এলাকার গ্রামে একটি পাইথনের দেখা মিলেছিল। আস্ত একটি ছাগল গিলে খেয়ে তার পেট ফুলে গিয়েছিল। তাই সেটি নড়তে পারছিল না। নর্দমা খুঁড়তে গিয়ে গ্রামের লোকজন সাপটিকে দেখতে পান। পরে বেলাকোবা থেকে বন দফতরের লোকজন সেটিকে উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দেন। সেটি সম্পূর্ণ সুস্থই ছিল।
বর্ষাকালে সাপের গর্তে জল ঢুকে গেলে তারা উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় খোঁজে। সে জন্য তাদের লোকালয়ে ঢুকে পড়তে দেখা যায়। আগে সাপ দেখলে লোকের মধ্যে তা মেরে ফেলার প্রবণতা দেখা যেত। তবে ক্রমাগত সচেতনতামূলক প্রচার করতে থাকায় এখন জলপাইগুড়ি জেলায় লোকে সাপ দেখতে পেলে দ্রুত স্থানীয় বন আধিকারিকের অফিসে বা পরিবেশকর্মীদের খবর পাঠান। ফলে এই জেলায় বন্যপ্রাণীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদে রয়েছে।