দ্য ওয়াল ব্যুরো : মাত্র ৪৯ বছর বয়সে আচমকাই মৃত্যু হয়েছিল জোকার বাসিন্দা অঞ্জনা ভৌমিকের। তাঁর ব্রেন ডেথের পরেই পরিবারের লোকেরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর অঙ্গদান করবেন। সেইমতো হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভার, চোখ ও ত্বক দান করা হয়। বুধবার সকালে শুরু হয়েছে সেই অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া।
স্বাস্থ্য দফতরের সম্মতির পরে বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে অঞ্জনাদেবীর হৃদযন্ত্র, দুটি কিডনি, লিভার, চোখ ও ত্বক নেওয়া হয়। তারপর গ্রিন করিডর করে মাত্র ১২ মিনিটে হাওড়ার আন্দুলের নারায়ণা হাসপাতাল থেকে তাঁর হৃদযন্ত্র, দুটি কিডনি ও লিভার এসে পৌঁছয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। তারপরেই সেখানে শুরু হয় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজ।
অঞ্জনাদেবীর হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হবে নদিয়ার বেতাইয়ের বাসিন্দা মৃন্ময় বিশ্বাসের শরীরে। ৩০ বছরের মৃন্ময় ভূগোলে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর ডাবলুবিসিএস-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত এক বছর ধরে হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। অন্যদিক লিভার প্রতিস্থাপন করা হবে ৫৩ বছর বয়সী বারাসাতের বাসিন্দা রিনা শীর দেহে। তিনিও অনেকদিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হবে হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা ৬০ বছরের হারুন রশিদ খানের দেহে। অন্য কিডনিটি নিয়ে আসা হলেও সেটি কার দেহে প্রতিস্থাপন করা হবে, সেটি এখনও জানানো হয়নি। ইতিমধ্যেই প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চোখ ও ত্বক সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কয়েকদিন আগে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন জোকার কাছে রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা ভৌমিক। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, রবিবার হঠাৎই রক্তবমি শুরু হয় অঞ্জনাদেবীর। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। প্রয়োজন হয় অত্যাধুনিক চিকিৎসার।
এরপরেই অঞ্জনাদেবীকে হাওড়ার আন্দুলের নারায়ণা হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর দাদা শ্যামল মণ্ডল। ভেন্টিলেশনে রাখা হয় অঞ্জনাদেবীকে। সোমবার সকালে চিকিৎসকরা জানান, অ্যাকিউট ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে তাঁর। ফলে মস্তিষ্কের ৯৯ শতাংশেরও বেশি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু ব্রেন ডেথ না হওয়ায় সচল রয়েছে শরীরের বাকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। এর খানিক পরেই মৃত্যু হয় অঞ্জনাদেবীর। নারায়ণা হাসপাতালের পক্ষ থেকেই তাঁর অঙ্গদানের কথা বলা হয় পরিবারকে। রাজিও হন তাঁরা। অঞ্জনাদেবীর দাদা শ্যামলবাবু বলেন, “বোন অকালে চলে গিয়েছে, ওর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পেয়ে যদি কেউ সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকেন তাহলে তো ভালোই। বুঝব আমার বোন এ ভাবেই অনেকের মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকবে। এটাই কী কম পাওনা!”