
শেষ আপডেট: 19 January 2019 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবারই কলকাতায় চলে এসেছিলেন ব্রিগেডে যোগ দেওয়ার জন্য। ঠিক তার আগে আগেই বিষ্যুদবারে তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি। উত্তরপ্রদেশে বেআইনি বালি খাদান মামলায় নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের। তাতেই বেআইনি টাকা লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত করতে ইডি ডেকে পাঠিয়েছিল অখিলেশকে। শনিবার ব্রিগেডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপি-র সঙ্গে ইডি, সিবিআই-কে জুড়ে দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতা।
এ দিন ব্রিগেডের মহা সমাবেশে অখিলেশ বলেন, “ওদের (পড়ুন বিজেপি-র) জোট ইডি, সিবিআই-এর সঙ্গে। আর আমাদের জোট জনতার সঙ্গে।” বেকারি, আর্থিক নীতি, সাম্প্রদায়িক বিভেদ-সহ একাধিক ইস্যু নিয়ে মোদী সরকারকে কার্যত তুলোধনা করেন মুলায়ম-পুত্র। ব্রিগেডে বিপুল জনসমাগম দেখে উচ্ছ্বসিত অখিলেশ বলেন, “নতুন বছর পড়েছে। আমরা সবাই উৎসব করেছি। কিন্তু এ বার আসল উৎসবটা করতে হবে নতুন সরকার এনে। দিল্লিতে এ বার নতুন সরকার আনার পালা। নতুন প্রধানমন্ত্রী বানানোর পালা।”
সপ্তাহ দেড়েক আগে যখন মায়াবতীর সঙ্গে লখনউয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে উত্তরপ্রদেশে ‘ঐতিহাসিক’ জোট ঘোষণা করছেন, তখনই মায়াবতী বলেছিলেন, “বিজেপি এ বার চোখে ধুতরো ফুল দেখে আরও সিবিআই, ইডি-কে লেলিয়ে দেবে।” প্রসঙ্গত চলতি মাসের গোড়ার দিকেই উত্তরপ্রদেশের ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। তালিকায় ছিল একাধিক সমাজবাদী পার্টির নেতা এবং সরকারি আমলার বাংলো। সেই সময়ই সিবিআই ইঙ্গিত দিয়েছিল এরপর ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে অখিলেশের দোরগোড়ায়। হয়েছেও তাই। কিন্তু এ সবে যে একেবারেই ঘাবড়াচ্ছেন না অখিলেশ, তা বুঝিয়ে দিলেন এ দিন।
অখিলেশকে সমর্থন জানিয়ে মমতাও এ দিন বলেন, “যে ওদের সঙ্গে না থাকলেই চোর, আর সঙ্গে থাকলেই ওয়াফাদার। বিরুদ্ধে কথা বললেই ইডি, সিবিআই দেখাচ্ছে। রাজনীতির সৌজন্য, লক্ষণ রেখা মানছে না। লালুজিকে জেলে পুড়েছে, অখিলেশকে টানছে, মায়াবতীকে টানছে, তেজস্বীকে টানছে, আমাকেও টানছে!” সেই সঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ-ও বলেন, “এই যে এখানে আজকে মিটিং হচ্ছে, আমি জানি দিল্লিতে এজেন্সির অফিসারদের ডেকে বলছে, দেখো ওখানে গিয়ে কী করা যায়। কিন্তু ওইসব ইডি, সিবিআই-এর ভয় দেখিয়ে আমাদের লাভ নেই।”
অখিলেশ আরও বলেন, “তামিল নাড়ুর নেতা (স্ট্যালিন) এই সমাবেশে বলেছেন, বিজেপি ওই রাজ্যে খাতা খুলতে পারবে না। আমি মমতাদিকে বলব, বাংলাতেও যেন বিজেপি খাতা খুলতে না পারে।” অখিলেশ মাইক ছাড়ার পর তাঁর সুরেই মমতা বলেন, “আমিও অখিলেশকে বলব, উত্তরপ্রদেশে ওদের শূন্য করে দাও!”
পরীক্ষা এপ্রিল মে-মাসে। তখন এমনিতেই বাতাসে থাকবে গরম হাল্কা। কিন্তু জানুয়ারির উনিশের মহড়াতেও বিরধী নেতারা যা বললেন, তা শুনে অনেকেই বলছেন, ভোটের লু বইতে শুরু করে দিল ব্রিগেড থেকেই।