
শেষ আপডেট: 20 January 2019 10:48
৩ ফেব্রুয়ারি বামেদের ব্রিগেডের সমর্থনে তারকেশ্বর থেকে কামারপুকুর, প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা দু’দিনের পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল সিপিএমের হুগলি জেলা কমিটি। রবিবার সকালে তারকেশ্বর থেকে শুরু হয় মিছিল। সিপিএমের হুগলি জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ জানিয়েছেন, পদযাত্রীরা রবিবার রাতে থাকবেন আরামবাগে। সোমবার সকালে ফের মিছিল শুরু করে যাওয়া হবে কামারপুকুর। এ দিন মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। সোমবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
বাম জমানায় বিরোধীরা প্রায় প্রতিদিন অভিযোগ তুলতেন আরামবাগের গণতন্ত্রকে বাজেয়াপ্ত করে রেখেছে সিপিএম। ২০০৪-এর লোকসভা ভোটে আরামবাগ থেকে ছ’লক্ষ ভোটের কাছাকাছি মার্জিনে জিতেছিলেন প্রয়াত অনিল বসু। পরে এ কথা সিপিএমের অনেক নেতাই স্বীকার করেছিলেন, ও ভাবে ভোট করা ঠিক হয়নি। পালাবদলের পর একই অভিযোগ তোলে সিপিএম। তৃণমূলের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবহার করে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা এবং ঘরছাড়া করার অভিযোগ তোলে বামেরা। এ নিয়ে প্রশাসনের দরজায় গিয়ে প্রতিবাদ করলেও, সেভাবে সংগঠিত হয়ে পথে নামেনি সিপিএম। নতুন বছরের জানুয়ারিতে বড় জমায়েত নিয়ে মিছিল করল তারা। সিপিএমের দাবি দশ হাজার কর্মীসমর্থক হেঁটেছেন রবিবারের পদযাত্রায়।
যে সিপিএম-কে আরামবাগ মহকুমায় প্রায় দেখাই যাচ্ছিল না, তাদের এমন মিছিল রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে। এ ব্যাপারে তৃণমূলের হুগলি জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী তপন দশগুপ্তর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল দ্য ওয়াল-এর তরফে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’, এই ফর্মুলায় আগে সিপিএম যা করেছিল তাই কি এখন তৃণমূল করছে? সেই কারণেই কি এত মানুষ সিপিএমের মিছিলে? জবাবে সপ্তগ্রামের বিধায়ক বলেন, “যা লোক এসেছে, সবই বাইরে থেকে আনা। গোটা হুগলি জেলা থেকে জড়ো করেছে। একজনও আরামবাগের লোক ছিল না। ওরা (পড়ুন সিপিএম) মুছে গিয়েছে। আমার জেলায় আর সিপিএম-কে ঘুরে আসতে হবে না।”