দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৫ জুন রাজ্যে ফেরার সময়ে কেরলের কান্নুড় জেলায় রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির বাসিন্দা আসাদুল ইসলামের। মৃতের পরিবারের তরফে বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে গিয়েও দেহ আনার বন্দোবস্ত করা যায়নি। শেষপর্যন্ত বহরমপুরের সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর উদ্যোগে বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্সে কেরল থেকে দুর্ঘটনায় মৃত যুবকের দেহ আসছে জলঙ্গিতে। তিন হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে জলঙ্গি পৌঁছবে অ্যাম্বুল্যান্সটি।
জানা গিয়েছে, কান্নুড় থেকে ফেরার পথে ট্রেন থেকে পড়ে যান ওই যুবক। আরপিএফ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এরপর খবর দেওয়া হয় পরিবারকে।
মৃতের পরিবারের এক সদস্যার বক্তব্য, জলঙ্গি থানা ও মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের কাছে গিয়ে তাঁরা দেহ আনার আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি। তারপর মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে অধীর চৌধুরীর কাছে যান মৃতের আত্মীয়রা। তারপরই পদক্ষেপ করেন প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী।
কেরলের কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অধীরবাবু। কান্নুড়ের কংগ্রেস সাংসদ এবং বিধায়করা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমস্ত ব্যবস্থা করেন। ময়নাতদন্তের পাশাপাশি মৃত যুবকের কোভিড টেস্টও হয়েছে। সেই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রায় সওয়া লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে দেহ আনতে। সেই বন্দোবস্তও করেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিই। এদিন বিকেলে দেহ পৌঁছনোর পর মৃতের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
প্রসঙ্গত, অধীরের এমন উদ্যোগ এই প্রথম নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসার কারণে আটকে পড়া মুর্শিদাবাদের বেশ কিছু শ্রমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা নিয়েছিলেন অধীরবাবু। তাছাড়া বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যাপারে গোড়ার দিকে অনেক দৌড়ঝাঁপ করেছিলেন তিনি। যদিও তাঁর অভিযোগ, নবান্ন কোনও গা করেনি। তবে দুর্ঘটনায় মৃত যুবকের পরিবার বলছে, অধীরবাবু না থাকলে তাঁরা তাঁদের ছেলেকে শেষ দেখা দেখতে পেতেন না।