দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে অসহিষ্ণুতা ও গণপিটুনি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন দেশের ৪৯ জন বুদ্ধিজীবী। তাঁদের মধ্যে নাম ছিল নাট্যকার ও অভিনেতা কৌশিক সেনেরও। আর এই চিঠিতে নাম থাকার পরেই নাকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ফোন আসছে কৌশিকের কাছে, এমনটাই অভিযোগ জানিয়েছেন অভিনেতা।
দেশের অভ্যন্তরে ক্রমাগত ঘটে চলা গণপ্রহারে মৃত্যু, আক্রমণের স্লোগান হিসেবে ‘জয় শ্রীরাম’–এর ব্যবহার সহ একাধিক ‘দুঃখজনক ঘটনা’তে উদ্বিগ্ন দেশের ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি বুধবার খোলা চিঠি পাঠান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রামচন্দ্র গুহ, আদুর গোপালকৃষ্ণন, শ্যাম বেনেগল, আশিস চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সহ দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের মধ্যে নাম ছিল কৌশিকেরও। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরেই রাতে তাঁর কাছে হুমকি ফোন আসে বলে অভিযোগ করেছেন কৌশিক।
এই হুমকির ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিনেতা জানিয়েছেন, "কাল রাতে আমি একটা অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন পাই। সেখানে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়, আমি যদি গণপিটুনি, অসহিষ্ণুতার মতো বিষয়ে বেশি আওয়াজ তুলি তাহলে আমাকে তার ফল ভোগ করতে হবে। আমাকে এও হুমকি দেওয়া হয়, মুখ বন্ধ না করলে আমাকে খুন করা হবে।" তারপরেই অবশ্য অভিনেতা বলেন, "আমি এই ধরণের ফোনে ভয় পাই না। আমি বাকি ৪৮ জন সাক্ষরকারীকে এই ফোনের কথা জানিয়ে তাঁদের নম্বরটা পাঠিয়ে দিয়েছি।"
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিনেতা মৌখিকভাবে তাঁদের বিষয়টি জানিয়েছেন। কোন নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল, তা খোঁজ করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার চিঠিতে নিজেদের ”শান্তিপ্রিয় ও গর্বিত ভারতবাসী” হিসেবে পরিচিতি দিয়ে তাঁরা লেখেন, ”প্রিয় প্রধানমন্ত্রী… মুসলিম, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের গণপ্রহারে মৃত্যুর ঘটনাবলী এই মুহূর্তে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এনসিআরবি (ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো)–র রিপোর্ট থেকে আমরা জানতে পেরেছি ২০১৬ সালে ৮৪০ জন দলিতের ওপর আক্রমণ নেমে এসেছে। এবং একই সঙ্গে হ্রাস পেয়েছে শাস্তির অনুপাত। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ধর্মকে কেন্দ্র করে ঘৃণাবশত আক্রমণের ২৫৪টি ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ৫৭৯।”
ঝাড়খণ্ডে গণপ্রহারে খুন হওয়া ২৪ বছরের যুবকের মৃত্যু সম্পর্কে বিবৃতি দিতে গিয়ে গত জুন মাসে সংসদে কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছিলেন, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ অথবা কেরল যেখানেই হিংসার ঘটনা ঘটবে, সবক্ষেত্রেই তা মোকাবিলা করা হবে একই পদ্ধতিতে। প্রধানমন্ত্রীর সেই অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশিষ্টজনেরা চিঠিতে লিখেছেন, ”আপনি সংসদে এই ধরনের হত্যার সমালোচনা করেছিলেন, কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়… আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি এই ধরনের হিংসা জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হোক।”
‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিটি একটি প্ররোচনামূলক ‘ওয়ার ক্রাই’ বা রণহুঙ্কারে পরিণত হওয়াই যে বর্তমানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার অন্যতম কারণ সেই বিষয়টির উল্লেখ করে উদ্বিগ্ন স্বাক্ষরকারীদের অভিমত, ধর্মের নামে এমন অনৈতিক আচরণ মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে মনে করিয়ে দেয়। ”দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের কাছে রাম একটি পবিত্র নাম। দেশের সর্বোচ্চ আধিকারিক হিসেবে আপনার উচিৎ রাম নামের এই বিকৃতি বন্ধ করা।”