দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিবরাত্রি উপলক্ষে তারকেশ্বর থেকে জল দিয়ে ফেরার পথে হুগলির বাগবাড়িতে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল তিন পুণ্যার্থীর, আহত হয়েছেন এক জন। তাঁকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় পরে তাঁকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত তিন পুণ্যার্থীর বাড়ি কলকাতার নারকেলডাঙায়, তাঁদের নাম আকাশ দাস (২৬), রাজেশ দাস (২১) ও রাজ দাস (২০)। আহত যুবকের নাম ছোট্টু দাস।
জানা গেছে, শিবরাত্রি উপলক্ষে কলকাতা থেকে জনা পনেরো-কুড়ির একটি দল তারকেশ্বরে যায় পুজো দিতে। তাঁদের বেশির ভাগই শেওড়াফুলি থেকে জল নিয়ে হেঁটে তারকেশ্বরের শিবমন্দিরে যাচ্ছিলেন। যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মধ্যে দু’জন সরাসরি কলকতা থেকে স্কুটি নিয়ে তারকেশ্বরের মন্দিরে যান। বালিগড়ির বাগবাড়ি এলাকায় স্কুটি করে আসা ওই দু’জনের সঙ্গে দেখা হয় অন্য পুণ্যার্থীদের। সেখান থেকে স্কুটিতে আরও দু’জন ওঠেন অর্থাৎ দুর্ঘটনার সময় একটি স্কুটিতে মোট চার জন ছিলেন।
বাগবাড়ি এলাকা থেকে কিছুটা এগোতেই উল্টো দিকে থেকে আসা একটি লরির সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন জনের। এক জন গুরুতর আহত হন। পুলিশ এসে আহত যুবককে উদ্ধার করে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতায় রেফার করা হয়।
দুর্ঘটনার পরে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে স্থানীয় লোকজন তারকেশ্বর-বৈদ্যবাটি ১২ নম্বর রোড অবরোধ করেন। ঘটনা স্থলে যায় তারকেশ্বর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাঁরা আহতকে উদ্ধার করেন। ক্রেনের সাহায্যে লরি সরিয়ে তিন জনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার এক দিকে সার বেঁধে লরি দাঁড়িয়ে থাকার জন্য চলাচলের অংশটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা। হেমনারায়ণ গিরি নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাস্তার বাঁদিকে সার বেঁধে বালি বোঝাই লরি দাঁড়িয়ে থাকে। আজ বলে নয় রোজই থাকে। আজ এত বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেল।”
পুলিশ ওই লরিটিকে আটক করেছে। আটক করা হয়েছে লরির চালককেও।