দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের বিধানসভার আগে আজ, বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল করেছেন দিদি। একাধিক জেলা সভাপতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে জেলায় জেলায় চেয়ারম্যান পদ তৈরি যেমন হয়েছে, তেমনই জেলা পর্যবেক্ষক বিষয়টাই তৃণমূলের অভিধান থেকে হঠিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে ‘মাদার’ সংগঠনের পাশাপাশি যুব সংগঠনেও বেশ কিছু বদল এনেছেন সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক জেলা কমিটিতে সভাপতি বদল করেছেন অভিষেক। তেমনই সাধারণ সম্পাদক, সহ সভাপতির মতো পদে তুলে আনা হয়েছে অনেক নতুন মুখকে।
যুব সংগঠনে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ বদল হয়েছে খোদ কলকাতায়। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি বদল করে দিয়েছেন অভিষেক। দক্ষিণ কলকাতায় এত দিন যুবর সভাপতি ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর জায়গায় সভাপতি করা হয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে। উত্তর কলকাতায় যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি পঞ্চাশোর্ধ্ব ছিলেন জীবন সাহা। তাঁকে সরিয়ে তিন নম্বর বরোর চেয়ারম্যান তথা ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর অনিন্দ্য রাউতকে করা হয়েছে জেলা সভাপতি।
স্বরূপকে সরিয়ে দেওয়া যে হতে পারে সেই গুঞ্জন কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। শোনা গিয়েছিল স্বরূপকে শোকজও করা হয়েছে। সে ব্যাপারে কয়েকদিন আগে টলিপাড়ার এই ডাকসাইটে নেতাকে দ্য ওয়াল-এর তরফে ফোন করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেছিলেন, শোকজের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। যদিও এদিন দেখা গেল, স্বরূপকে সত্যিই ছেঁটে ফেলল যুব তৃণমূল। বিরোধীদের বক্তব্য, টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায় স্বরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর বাহিনী যে মৌরসীপাট্টা চালাচ্ছেন তা নিয়ে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। তাঁদের বক্তব্য, তা ধামাচাপা দিতেই তৃণমূল এই রদবদল করতে একরকম বাধ্য হল।
এছাড়াও অভিষেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিনয় মিশ্রকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিজেপি, সিপিএম সহ বিরোধী নেতারা। তাঁদের কথায়, ‘বিনয় মিশ্র খুবই কাজের ছেলে পরিচিত’!
কোচবিহার জেলায় মাদার সংগঠনের জেলা সভাপতি বদল করেছেন মমতা। বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের জায়গায় আনা হয়েছে প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়কে। এই জেলায় যুব সভাপতিও বদল করা হয়েছে। বিষ্ণুব্রত বর্মন ছিলেন যুবর সভাপতি। কিন্তু তরুণ এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শিলিগুড়িতে চিকিৎসাধীন। বদল একরকম অনিবার্যই হয়ে পড়েছিল। এদিন তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে অভিজিৎ দে ভৌমিক ওরফে হিপ্পিকে। প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের এই জেলায় প্রায় সারা বছরই মাদার-যুবর কোন্দল লেগে থাকে। অতীতে দেখা গিয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বাহিনীর সঙ্গে নিশীথ প্রামাণিকের বাহিনীর মধ্যে বোমা-গুলি চলছে। একুশের ভোটের আগে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে সংগঠন দাঁড় করানোও চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের কাছে।
একুশের ভোটের আগে যুব সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এর মধ্যে একাধিক পদক্ষেপ করেছে তৃণমূল। সম্ভবত প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে ‘যুবযোদ্ধা’ নামে বাহিনীও তৈরি করেছে।
যদিও বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু এ ব্যাপারে বলেন, “বাংলার যুবরা এখন বুঝে গিয়েছেন তৃণমূল মানে আসলে গুটিকয়েক লোকের তোলাবাজি, ধান্দাবাজি, করে খাওয়ার জায়গা। যতই সাংগঠনিক বদল করুক, তৃণমূল পার্টিটা উঠে যাওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”