দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর পেশায় তিনি প্রতিষ্ঠিত। পরিচিতও বটে। কলেজ পড়ুয়া তরুণীর চরিত্র হোক বা অন্তর্বাস পরা দৃশ্য, সবেতেই তিনি সাবলীল। কিন্তু সেই তিনিই, অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ হঠাত্ করেই গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে। গতকাল পুরুলিয়ার মাটিতে সায়নীর হয়ে সওয়াল করেছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর এদিন যেটা হল তা খুবই তাত্পর্যপূর্ণ।
যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত টুইটারে ফলো করা শুরু করলেন সায়নীকে।
এমনিতে সায়নী যে বাম ও প্রগতিশীল মানসিকতার তার মধ্যে লুকোছাপা নেই। সমসাময়িক রাজনীতি, সামাজিক ঘটনা নিয়ে তাঁর মত সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন এই অভিনেত্রী। শুধু নেটে নয়। মিছিলে হেঁটেও 'ফ্যাসিবাদী প্রবণতা'র বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন একাধিক বার। সেই সায়নীকে এবার ফলো করতে শুরু করল তৃণমূল ও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
তবে একথা ঠিক, সায়নীকে কখনও কোনও দলের মঞ্চে দেখা যায়নি। এবং এও ঘটনা সিপিএম বা মূল ধারার বাম দলগুলো তেমন হইহই করে সায়নীর হয়ে ডিজিটাল ময়দানে নামেনি। অনেকের মতে, তাঁদের আশঙ্কা রয়েছে বিজেপি বিরোধিতাকে মূল টার্গেট করতে সায়নী হয়তো নচিকেতার মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে লেনিনকে দেখে ফেলতে পারেন।
হতে পারে সেটা বুঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে দাঁড়িয়েছেন সায়নীর। খোলা মঞ্চ থেকে হুঙ্কার ছেড়ে বলেছেন, সায়নী বলে একটা মেয়ে, তাকে বিজেপি ধমকাচ্ছে। কেন? এত বড় ক্ষমতা! তুমি উত্তরপ্রদেশে ধমকাও, বিহারে ধমকাও, বাংলাতে ধমকানোর আশা রাখো কোথা থেকে? বাংলায় ধমকালে মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে দেবে মানুষ। ক্ষমতা থাকে সায়নীর গায়ে হাত দিয়ে দেখাও, ক্ষমতা থাকলে টলিউডের গায়ে হাত দিয়ে দেখাও। ক্ষমতা থাকলে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখাও।”
অভিষেকের ফলো করার কারণও তাই। এও হতে পারে তৃণমূল চাইবে বিধানসভার প্রচারে অরাজনৈতিক ভাবে তাঁকে ব্যবহার করতে। যদিও সায়নী তাতে কতটা রাজি হবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
আর স্বপনবাবু এক সময় সাংবাদিক ছিলেন। টিপিক্যাল বিজেপি নেতাদের মতো নন। তবে বিরোধী মতাদর্শের একজন লাইমলাইটে আসা অভিনেত্রী কী বলছেন, কী মত রাখছেন তা নজরে রাখতেই হয়তো তিনি ফলো করেছেন।
তবে অভিনেত্রী সায়নীর তুলনায় রাজনৈতিক মত পোষণ করা সায়নীকে নিয়ে যেন বেশি চর্চা চলছে বাংলায়।