দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউরোপ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ভিডিও কনফারেন্সের শেষ পর্বে পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময়ে অভূতপূর্ব কথোপকথনের সাক্ষী থাকল নবান্ন। সৌজন্য জানিয়ে মমতা বললেন, " অভিজিৎদা, আপনি ভাল থাকবেন। সাবধানে থাকবেন।" প্রত্যুত্তরে নোবেলজয়ী বললেন, "আমি তো ঘরবন্দি। অফিসের কাজ করছি বাড়ি থেকে। আমার কোনও ভয় নেই। আপনি এত জায়গায় ঘুরে বেড়ান। আপনি সাবধানে থাকবেন। আপনার জন্য চিন্তা হয়!"
এখানে যখন বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন হচ্ছে অভিজিৎবাবুর ওখানে তখন ভোর। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল ঘুম চোখ খুলেই ভিডিও কনফারেন্সে বসেছেন অভিজিৎবাবু। পিছনের একটি ছোট খাটে নীল-সাদা ছাপা চাদর আর চেয়ারে দলাপাকানো পোশাক। একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে পাঞ্জাবি পরে ভিডিও কনফারেন্স করছিলেন অমর্ত্য সেনের ছাত্র। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এল সেই ঘরোয়া মেজাজটাই।
সোমবারের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন থেকেই প্রয়োজন। তাই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শীর্ষে রেখে ‘গ্লোবাল অ্যাডভাইজারি বোর্ড ফর কোভিড রেসপন্স পলিসি ইন ওয়েস্টবেঙ্গল’ গড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা।
এদিন অভিজিৎবাবু বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম বাজারে ঢোকা-বেরোনোর সময়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা। উদাহরণ দিয়ে বলেছেন তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া এভাবেই করোনা সংক্রমণ রুখতে সাফল্য পেয়েছে। অভিজিৎবাবুর পরামর্শ রাজ্য সরকার কার্যকর করবে বলেও জানান মমতা।
এদিন ভিডিও কনফারেন্সের শেষে মমতা ও অভিজিৎ পরস্পরকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। হেসে ফেলে অভিজিৎ বলেন, "এখনও কিছুদিন দেরি আছে নববর্ষ আসতে। তাও শুভ নববর্ষ জানাচ্ছি।" হেসে ফেলেন মমতাও।