দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিনরাজ্যের মহিলাকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মালদায়। সূত্রের খবর, টানা পাঁচমাস ধরে আটকে রেখে মহিলাকে লাগাতার গণধর্ষণ করা হয়েছে। অবশেষে অপহরণকারীদের ডেরা থেকে ওই মহিলা নিজের শিশুকন্যাকে নিয়ে পালাতে সক্ষম হন। এরপরেই তাঁকে উদ্ধার করেছে মালদা পুলিশ। যদিও নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।
জানা গিয়েছে, ওই মহিলা মণিপুরের রাজধানী ইমফলের বাসিন্দা। ব্যবসায়িক সূত্রে মালদার কালিয়াচকে যাতায়াত ছিল তাঁর দাদার। কালিয়াচকের শেরশাহী এলাকার বাসিন্দা আরিউল শেখের সঙ্গে আলাপ হয় নির্যাতিতার দাদার। দু'জনে শুরু করেন রেশমের ব্যবসা। অভিযোগ ব্যবসা সংক্রান্ত টাকা না পাওয়ায় ওই ব্যক্তির বোন ও তাঁর দু'বছরের কন্যা সন্তানকে অপহরণ করে আরিউল।
পুলিশ সূত্রে খবর, অপহরণের পর নিজের এলাকারই এক গোপন ডেরায় মহিলা ও তাঁর সন্তানকে আটকে রাখে আরিউল। অভিযোগ, মহিলার দাদা রেশমের টাকা না দিতে পারায় বোনের উপর চলে নারকীয় অত্যাচার। অভিযোগ লাগাতার পাঁচমাস ধরে ওই মহিলাকে গণধর্ষণ করেছে আরিউল ও তার কয়েকজন সঙ্গী। এরপর একদিন আরিউলের ডেরা নিজের সন্তানকে নিয়ে পালান ওই মহিলা। মালদার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, নির্যাতিতা এবং তাঁর সন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসাও হয়েছে। আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন মা ও মেয়ে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা এবং পুলিশের কর্মক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভও দেখিয়েছেন। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জেলা বিজেপি সভাপতি গোবিন্দ মণ্ডল।
তিনি বলেছেন, "তৃণমূলের শাসনকালে এই ধরণের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটে চলেছে । আর পুলিশ এই ধরণের অপরাধ এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। মালদার কালিয়াচকের ঘটনাতেও পুলিশ একই কাজ করছে। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করুক পুলিশ।"
এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা সিপিএমের সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেছেন, "পুলিশ এই ঘটনার পর যে ভাবে মুখ বন্ধ করে আছে তাতে এই অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। পুলিশের উচিত অপরাধীদের সহযোগিতা না করে নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ানো। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করুক।"