দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের শোকজ করা হলে তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্র বিপ্লব হবে বলে একুশের মঞ্চ থেকে সরাসরি রাজ্যপালকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন শহিদ দিবসের ভার্চুয়াল সভা থেকে তৃণমূলনেত্রী বলেন, "দিল্লির এক তাঁবেদার বলছিল, ভিসিদের শোকজ করব। আমি বলেছি, ক্ষমতা থাকলে ভিসিদের একটা শোকজ করে দেখান, গায়ে হাত দিয়ে দেখান। তারপর দেখবেন ছাত্র বিপ্লব কাকে বলে।"
নবান্নের সঙ্গে রাজভবন বা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত নতুন নয়। ধারাবাহিক সংঘাতে এখন নতুন এপিসোড বাংলার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। গত সপ্তাহেই রাজ্যপাল সমস্ত উপাচার্যদের ভার্চুয়াল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু আচার্যের ডাকা বৈঠকে যোগ দেননি তাঁরা। সে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন জগদীপ ধনকড়। অভিযোগ তুলেছিলেন, শিক্ষাক্ষেত্রকে রাজনীতির গেরোয় বেঁধে রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার।
তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে ধনকড়ের বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো আক্রমণ শানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রণংদেহি মেজাজে মমতা বলেন, “রাজ্যপাল অমিত শাহের থেকেও ভয়ানক কথাবার্তা বলছেন। একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছেন। যেন আমরা ওঁর চাকরবাকর!”
এর মধ্যেই দেখা যায় একুশে জুলাইয়ের আগের দিন, অর্থাৎ গতকাল দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে চলে যান রাজ্যপাল। দীর্ঘ এক ঘণ্টা বৈঠক হয় শাহ ও ধনকড়ের। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে রাজ্যপাল জানান, মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে তিনি অমিত শাহকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এক- কোভিডের লাগামহীন সংক্রমণ ও মৃত্যু, দুই- রাজনৈতিক হিংসা ও তিন- উমফানের ত্রাণ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি।
শুধু তাই নয়। আজ, তৃণমূলনেত্রী একুশের বক্তৃতা করতে ওঠার প্রাক মুহূর্তে টুইট করেন রাজ্যপাল। সেখানেও রাজ্যের রাজনৈতিক হিংসা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দেন তিনি।
এরপর একুশের মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, "কেউ কেউ বলছে বাংলায় নাকি আইনশৃঙ্খলা নেই! বাংলায় আইনশৃঙ্খলা না থাকলে কোথায় আছে? সারা দেশে কী চলছে? একদিকে এনকাউন্টার করছে আর অন্যদিকে মুখ স্তব্ধ করে দিচ্ছে। কাউকে কথা বলতে দিচ্ছে না। প্যানেলে, চ্যানেলে সব জায়গায় মুখবন্ধ। এর বিরুদ্ধে আমাদের মাথা উঁচু করে লড়তে হবে।"