দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজারে বের হলেই তাঁদের তাড়া দিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যে ঠিকাদারি সংস্থার অধীনে তাঁরা কাজ করেন তাঁরাও বিপদের দিনে কোনও রকম ভাবে সহায়তা করছেন না। লকডাউনের মধ্যেই তাই জলপাইগুড়ির মালবাজার থেকে হেঁটে কাটিহারের দিকে রওনা হলেন জনা দশ-বারো শ্রমিক। তাঁরা রং করার কাজ করেন। কিছুদিন আগে একটি কাজের বরাত পেয়ে মালবাজারে এসেছিলেন। এখন সমস্যায় পড়ে লকডাউনের মধ্যেই ২৮৩ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে পার হওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁরা নিয়েছেন।
নেওড়া ব্রিজে পুলিশ ওই শ্রমিকদের পথ আটকায়। তাঁদের থামিয়ে দিয়ে পুলিশকর্মীরা জানতে চান লকডাউনের মধ্যে যখন বাড়ি থেকে বের হওয়াই নিষেধ তখন কেন তাঁরা বের হয়েছেন এবং কোথায় যাচ্ছেন। তাঁদের উত্তরে পুলিশ জানতে পারে যে এই এলাকার লোকজন তাঁদের বাড়ি থেকে বের হতেই দিচ্ছেন না। অতি দরকারি কোনও জিনিস কিনতে বাড়ি থেকে বেরলেই ধমকে তাঁদের বাড়িতে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা খাবার পর্যন্ত কিনতে পারছেন না। ফলে তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।
তাঁদের অভিযোগ, ভিনরাজ্যের বাসিন্দা হওয়ায় তাঁদের অন্য চোখে দেখছেন এলাকার লোকজন। তা ছাড়া এই অবস্থার মধ্যেও যে ঠিকাদারি সংস্থার অধীনে তাঁরা কাজ করেন সেই কোম্পানির লোকও তাঁদের কোনও রকম ভাবেই সহযোগিতা করছেন না। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা কাটিহারে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। পুলিশের এক কথার জবাবে তাঁরা জানান যে গাড়ি না চলায় হেঁটেই তাঁরা ফিরছেন।
সমস্যার কথা শুনে পুলিশ তাঁদের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মালবাজারে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
দেশজুড়ে লকডাউন বলবত করার দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন যে যেখানে আছেন সে যেন সেখানেই থাকেন। প্রথমে বিভিন্ন রাজ্য লকডাউন ঘোষণা করছিল। কেন্দ্রীয় সরকারও ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছিল। বিভিন্ন সংস্থা কমিয়ে দিচ্ছিল উড়ানের সংখ্যাও। রাজ্য সরকারগুলিও একে একে লকডাউন ঘোষণা করছিল। তখনই অনেকে মনে করছিলেন যে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।