দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধার সেন্টারের পিছনে রমরমিয়ে চলছিল প্রতারণা চক্র। অবশেষে পুলিশি তদন্তে ফাঁস হল প্রতারকদের জারিজুরি। এক মহিলা-সহ ভিন জেলার মোট ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে ৫ জনকেই আটক করে পুলিশ। পরে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে আটক মহিলা এবং আরও একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, ধৃত মহিলা নিজেকে বিধায়কের স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, এই ঘটনা চন্দ্রকোণার ইলামবাজার এলাকার। তবে এতদিন এই প্রতারণা চক্রের কথা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই তাদের কাছে অভিযোগ আসছিল যে চন্দ্রকোণার ইলামবাজার এলাকায় একটি আধার সেন্টারে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার বিনিময়ে নতুন আধার কার্ড তৈরি এবং পুরনো কার্ড সংশোধনের কাজ চলছে। বাড়ির কাছাকাছি এমন সেন্টার পেয়ে বেজায় খুশি ছিলেন এলাকাবাসীও। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আধার কার্ডের কাজ করানোর রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল এলাকায়।
পুরো ব্যাপারটায় প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল চন্দ্রকোণা টাউন থানার পুলিশের। কয়েকদিন ধরেই ওই আধার সেন্টারের উপর নজর রাখছিলেন সিভিল পোশাক পরা অফিসাররা। প্রাথমিক ভাবে ছানবিনের পর শনিবার সকালে ওই আধার সেন্টারে পৌঁছয় পুলিশ। সাদা পোশাকে ছিলেন সকলে। তাই তাদের উপস্থিতি বিন্দুমাত্র বুঝতে পারেনি প্রতারকরা। তারপর ধরপাকড় শুরু হতেই প্রতারক পালানোর চেষ্টা করে। সাদা পোশাকে থাকায় অফিসারদের প্রথমে পুলিশ বলে মানতেও চায়নি তারা। তবে একটু চাপ দিতেই একে একে ধরা পড়ে ৫ জন।
এই আধার সেন্টার খোলার সঠিক কাগজপত্রও পুলিশকে দেখাতে পারেনি ধৃত ৫ জন। জানা গিয়েছে, এরা সকলেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। প্রায় একমাস ধরে এমন প্রতারণার ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল তারা। টাকা নিয়ে যেসব আধার কার্ড বানিয়ে দেওয়া হচ্ছিল সেগুলি আসল কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আধার কার্ড তৈরি বা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এরা হাতিয়ে নিচ্ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। ওই সেন্টার থেকে মোট কতজনের নতুন আধার কার্ড তৈরি হয়েছে এবং কাদের পুরনো কার্ডে সংশোধন করা হয়েছে তার বিস্তারিত তালিকা বের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে এই খবর জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যাঁরা এর মধ্যে ওই সেন্টারে গিয়েছিলেন তাঁরাও যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে তদন্তের স্বার্থে এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষার খাতিরে ধৃতদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।