
শেষ আপডেট: 20 July 2020 07:35
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে ময়নাগুড়ি ইন্দিরা মোড় লাগোয়া এলাকায় একটি বাড়িতে থাকেন বাবুল সরকার। তিনি পেশায় কৃষক। শনিবার রাতে তাঁর স্ত্রী রান্না করতে গেলে দেখতে পান রান্নাঘরের মাটির মেঝেতে একটি সাপ ফণা তুলে রয়েছে। তার সঙ্গে বেশ কয়েকটি বাচ্চাও রয়েছে। আচমকা এমন দৃশ্য দেখে তিনি চমকে ওঠেন। চিৎকার করে ছুটে পালান ঘর থেকে। সাপের ভয়ে সারা রাত কেউ রান্নাঘরে যাননি।
রবিবার বেলার দিকে রান্নাঘরে গেলে ফের একই দৃশ্য দেখতে পান তিনি। তখন তাঁরা খবর দেন ময়নাগুড়ির পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যদের। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো দল নিয়ে সেখানে হাজির হন ময়নাগুড়ি পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক নন্দু রায়।
নন্দুবাবু বলেন, “আমার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছিল এখানে বেশ কয়েকটি সাপের বাচ্চা পাওয়া যাবেই। তাই আমি টিমের সবাইকে বলেছিলাম মা সমেত সব ক’টি ছানাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে হবে। তার জন্য যত সময় লাগে লাগুক।”
এরপর তাঁরা দুপুর নাগাদ পৌঁছে যান ওই বাড়িতে। নন্দু রায় বলেন, “প্রথমে ভাল ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারি পুরো রান্নাঘর জুড়ে ছড়িয়ে আছে সাপের ছানাগুলো। এরপর শুরু করি মাটির মেঝে খোঁড়ার কাজ। প্রথমে বড় সাপটিকে উদ্ধার করি। তখনই বেরিয়ে আসে কয়েকটি ছানা। এরপর আরও মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় সাপের ডিম। সেগুলি নাড়াতেই ফের কয়েকটি সাপের ছানা বের হয়। এই ভাবে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় একে একে মোট ২৩টি ছানা উদ্ধার করি। এগুলো প্রতিটিই স্পেকটিক্যালড কোবরা। ভীষণ বিষধর সাপ। এগুলি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।” তিনি জানিয়েছেন, বন দফতরকে জানিয়ে ওই সাপগুলিকে তাঁরা নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দিয়েছেন।