দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশকর্মীদের সহায়তায় বাড়ি ফিরলেন প্রতিবেশী রাজ্য থেকে হেঁটে ফেরা মুর্শিদাবাদের বারো জন শ্রমিক। ওই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও করা হয় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।
পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার টহলরত পুলিশকর্মীরা শুক্রবার সকালে দেখতে পান শ্রমিকদের একটি দল হেঁটে চলেছেন। পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তাঁরা জানান বিহারের পাটনায় রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়েছিলেন। লকডাউনের জন্য কোনও গাড়ি না পাওয়ায় টানা পাঁচ দিন ধরে হেঁটে ফিরছেন। তাঁদের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলায়।
পুলিশ ওই শ্রমিকদের প্রথমে ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়। প্রথমেই তাঁদের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরে শ্রমিকদের পাঠানো হয় জেলা পুলিশ লাইনে। সেখান থেকে সরকারি বাসে করে তাঁদের বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশের এই সহায়তায় খুশি পরিযায়ী শ্রমিকরা। রফিক শেখ নামে এক জন শ্রমিক বলেন, “পাঁচ দিন ধরে হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ফোস্কা পড়ে গেছে। আর হাঁটতে পারছিলাম না। প্রচণ্ড রোদে খুব কষ্ট হচ্ছিল। রাস্তায় পুলিশ আমাদের দেখেই আটক করে। প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে ব্যাপারটা বুঝতে পারি আমরা। পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ায় প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো এখন আর বাড়ি ফেরা হবে না। কিন্তু পুলিশ যেভাবে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করল এবং খাবারের ব্যবস্থা করল তাতে আমরা খুব খুশি।”
ভাতার থানার ওসি প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাস্তায় টহল দেওয়ার সময় পুলিশকর্মীরা দেখেন কয়েক জন শ্রমিক হেঁটে যাচ্ছেন। তখন ওঁদের কাছে খাবার ছিল না। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরে ওঁদের পুলিশ লাইনে এনে খাবার দেওয়া হয়। তারপরে পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি বাসে করে ওঁদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দেন।”
পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিভিন্ন জেলা থেকে এসে যে সব শ্রমিক আমাদের জেলায় আটকে পড়েছেন তাঁদের আমরা প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছি। পরে নিয়ম মেনে তাঁদের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। যাঁরা হেঁটে বাড়ি ফেরার জন্য এই জেলার উপর দিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের ক্ষেত্রেও তাই করছি। হেঁটে তো কারও পক্ষে ফেরা সম্ভব নয়। আমরা প্রত্যেককে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করছি। তবে সবকিছুই করছি নিয়ম মেনে। যাঁদের আটক করছি তাঁদের প্রত্যেকের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।”