দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড আক্রান্ত উপসর্গহীন ও মৃদু উপসর্গের যে রোগীরা বাড়িতে বা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন, তাঁদের জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন নম্বর চালু করল রাজ্য সরকার। শনিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা বলেন, “যে সমস্ত কোভিড আক্রান্তরা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন, তাঁদের একটা প্রশ্ন ছিল যে, তাঁরা চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ (মেডিক্যাল গাইডেন্স) পাবেন কী ভাবে? তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। ১৮০০৩১৩৪৪৪২২২—এই নম্বরে ফোন করলে তাঁদের থেকে শুনে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, “পাঁচটা বা ১০টা নম্বর দেওয়া হচ্ছে না এই কারণে যে, অনেকে এটায় না পেলে ওটায়, ওটায় না পেলে সেটায় করতে গিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাই একটাই নম্বর দেওয়া হচ্ছে। ব্যাকএন্ডে অনেকগুলি ফোন থাকবে। মানুষের কোনও অসুবিধা হবে না।” রাজীব সিনহা এও বলেন, “কারও যদি বাড়িতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাহলে এই নম্বরে ফোন করে জানালেই অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।”
মুখ্যসচিব এদিন পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছেন, অধিকাংশ আক্রান্ত বাড়িতেই রয়েছেন। হোম আইসোলেশনেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। শনিবার বিকেলে তিনি হিসেব দিয়ে বলেন, রাজ্যে এখন কোভিড অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ১৪ হাজার ৭০৯। তাঁদের মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ জনের মতো উপসর্গহীন রোগী। এই সমস্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে বাড়িতে বা সেফ হোমে।
সেফ হোমের ক্ষেত্রেও বাড়তি ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যসচিব। এদিন রাজীব সিনহা বলেন, প্রতিটি সেফ হোমে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা রাখা হচ্ছে। সেখানে কারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে যাতে অ্যাম্বুলেন্স পেতে সময় না লাগে সেই জন্যই এই ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন তিনি।
বেশ কিছু ফলস পজিটিভ কেসের অভিযোগও রাজ্য সরকারের কাছে এসেছে বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানান রাজীব সিনহা। অর্থাৎ করোনা আক্রান্ত হননি এমন কয়েকজনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই ঘটনা কেন হয়েছে তারও ব্যাখ্যা দেন তিনি। তাঁর কথায়, “টেস্টের নতুন কিট আসছে। সেগুলি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ব্যবহার পদ্ধতিতে অনেক সময়ে টেকনিশিয়ানদের ভুল হচ্ছে। এটা তাঁদের দোষ নয়। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিটের ধরনে বদল হচ্ছে। তাই এই ধরনের ভুল যাতে না হয় সে কারণে আজ থেকে রাজ্য সরকার ল্যাবের টেকনিশিয়ানদের জন্য বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছে।”