দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক রাতে শহরের দুটি জনবহুল এলাকায় এটিএম লুঠের চেষ্টা করল দুষ্কৃতীরা। একটি হাওড়া থানার অন্তর্গত ফজিরবাজার এলাকায় আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের এটিএম এবং অন্যটি চ্যাটার্জিহাট থানার অন্তর্গত ঘোষপাড়া এলাকায় ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের এটিএম। একই রাতে পরপর এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর আগেও শহরে এটিএম ভাঙার চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা। সেই দুষ্কৃতীদেরও পুলিশ এখনও ধরতে পারেনি। এরই মধ্যে আরও দু’টি এটিম লুঠের চেষ্টা হল।
হাওড়া কমিশনারেট এলাকায় এই প্রথম এটিএম লুঠের চেষ্টা হল এমন নয়। লক ডাউনের আগে লিলুয়া থানা এলাকায় এটিএম ভেঙে টাকা লুঠ হয়েছিল। আরও কয়েক জায়গায় চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনার কিনারা হওয়ার আগে ফের দুটি এটিএমে হামলা এখন পুলিশকে ভাবাচ্ছে। আগের ঘটনাগুলির তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছিল হরিয়ানার একটি গ্যাং এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। তবে পুলিশ সেই গ্যাংটিকে ধরতে পারেনি। তার কয়েক মাস পরে এই ঘটনা ঘটায় পুলিশ খতিয়ে দেখছে ওরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে নাকি এর পিছনে অন্য কোনও গ্যাং রয়েছে।
যে দুটি এটিএম বৃহস্পতিবার রাতে লুঠ করার চেষ্টা করা হয় সেই দুটি এটিএমেরই বাইরের সিসি ক্যামেরা খারাপ ছিল। একথা দুষ্কৃতীদের জানার কথা নয়। শুধুমাত্র কর্মীরাই সেকথা জানতে পারে। তা হলে এই ঘটনার পিছনে এটিএমের কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কে নিরাপত্তাকর্মী থাকার কথা। তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ। এটিএমে যে সংস্থা টাকা ভরে তাদের কর্মীদের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এটিএম ব্যাঙ্কের যে শাখার অধীন সেই শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ। ইউনিয়ন ব্যাঙ্কের এটিএমের বাইরে কোনও নিরাপত্তারক্ষী থাকেন না। তাই এই এটিএমে যে সংস্থা টাকা ভরে তাদের কর্মী ও সংশ্লিষ্ট শাখার ব্যাঙ্ককর্মীদের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে বলে জানা গেছে। এটিএম দুটির সিসি ক্যামেরা খারাপ থাকলেও ওই দুই এলাকার অন্য সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দুষ্কৃতীরা অবশ্য টাকা নিতে পারেনি। বেরিয়ে যাওয়ার পরে তারা এটিএমের শাটার নামিয়ে দিয়ে যায়। এলাকার লোকজন টাকা তুলতে এসে শাটার নামানো দেখেন। তাঁদের মাধ্যমেই পুলিশে খবর যায়। বছর খানেক আগে হাওড়ার জগদীশপুরে এবং সিটিআইয়ের কাছেও একাধিক এটিএমে টাকা লুঠের চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা।