প্রেমে প্রত্যাখ্যান, সুইসাইড নোট লিখে আত্মঘাতী নদিয়ার কিশোরী
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া : দিদির বাড়ি বেড়াতে এসেছিল ষোলো সতেরা বছর বয়সের হাসিখুশি কিশোরী মেয়েটি। শুক্রবার রাতে আচমকা তার আত্মঘাতী হওয়ার খবরে শোকে ভেঙে পড়েছে বাড়ির লোকজন। নদীয়ার শান্তিপুরের বাগানিপাড়া এলাকার ঘটনা এটা।
হবিবপুরের পানপাড়া এলাকা
শেষ আপডেট: 22 August 2020 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া : দিদির বাড়ি বেড়াতে এসেছিল ষোলো সতেরা বছর বয়সের হাসিখুশি কিশোরী মেয়েটি। শুক্রবার রাতে আচমকা তার আত্মঘাতী হওয়ার খবরে শোকে ভেঙে পড়েছে বাড়ির লোকজন। নদীয়ার শান্তিপুরের বাগানিপাড়া এলাকার ঘটনা এটা।
হবিবপুরের পানপাড়া এলাকার গোপাল দেবনাথের ছোটো মেয়ে জয়া দেবনাথ এক সপ্তাহ আগে শান্তিপুর বাগানিপাড়ায় দিদির বাড়ি বেড়াতে আসে। উজ্জ্বল নামে হবিবপুরেরই একটি ছেলেকে সে ভালোবাসতো বলে পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। ছেলেটিকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিল জয়া। কিন্তু ছেলেটি সেই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই মনঃকষ্টে ভুগছিল সে। দিদির বাড়ি বেড়াতে এসেও তার মনমরা ভাব কাটেনি।
গতকাল রাত ১১টা নাগাদ নিজের শোয়ার ঘরের খাটের উপরে ফ্যানের হুকের সঙ্গে দড়ি বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে জয়া দেবনাথ। মৃতার ঘর থেকে তার নিজের হাতে লেখা একটা সুইসাইড নোটও পাওয়া গেছে।

পাশের ঘরে দিদি জামাইবাবু থাকলেও, গতকাল রাত্তিরে তারা কিছুই আন্দাজ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন পুলিশকে। আজ সকাল ছটা নাগাদ অনেক ডাকাডাকির পরও জয়া দরজা না খুললে জামাইবাবু তপন বিশ্বাস দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। তখনই সিলিং থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় শ্যালিকার মৃতদেহ আবিষ্কার করেন তিনি।
মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে জয়া দেবনাথ এ বছরই মাধ্যমিক পাস করে এবং হবিবপুরের স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। জয়ারা তিন বোন। দেবনাথবাড়ির তিন বোনের মধ্যে জয়ার বড়বোনও পারিবারিক অশান্তির জেরে দু'বছর আগে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল বলে পরিবার-সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে সকাল থেকেই এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য রয়েছে। শান্তিপুর থানার পুলিশের তরফ থেকে সকাল দশটা নাগাদ মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য রানাঘাট মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি রানাঘাট থানার সঙ্গে আলোচনা করেই অদন্তের কাজ এগোনো হবে বলে জানিয়েছেন শান্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার।পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন করা হবে, পুলিশ-প্রশাসন সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে।