দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষ ও অভিজ্ঞ নার্সদের প্র্যাকটিশনার পদে নিয়োগ করা হবে বলে গতকালই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, যে নার্সরা অভিজ্ঞ হবেন ও ভাল কাজ করবেন তাঁরা যোগ্যতা অনুযায়ী ‘প্র্যাকটিশনার সিস্টার’ পদে পদোন্নতি পেতে পারবেন। অর্থাৎ চিকিৎসকদের মতোই প্র্যাকটিস করতে পারবেন ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে সিদ্ধান্তও নিতে পারবেন। এই মর্মে নির্দেশিকাও তৈরি করে দেবে স্বাস্থ্য দফতর। ডাক্তারদের অভাব পূরণের জন্য মুখ্যমন্ত্রী যে নতুন ঘোষণা করেছেন তা নিয়েই চিকিৎসক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। রাজ্যে চিকিৎসকদের সংগঠনের তরফেও নানা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে।
রাজ্যে চিকিৎসকদের অভাব নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বারে বারেই। সেই ঘাটতি মেটাতেই এবার নার্স প্র্যাকটিশনার পদ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালে বৈঠকের পরে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যার মধ্যে অভিজ্ঞ নার্সদের পদোন্নতি দেওয়ার এই বিষয়টিও ছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, নার্সদের প্র্যাকটিশনার পদে নিয়োগ করলে ডাক্তারদের অভাব মেটানো যাবে। আর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই চিকিৎসক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আয়ুষ সার্ভিস ডক্টর’স ফোরামের তরফে জানানো হয়েছে, এর আগে বামফ্রন্ট সরকারও ‘খালিপদ ডাক্তার’ তৈরি করেছিল, কিন্তু সেই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে। তৃণমূল সরকারও ক্ষমতায় আসার পরে নার্স প্র্যাকটিশনার ও নন-রেজিস্টার্ড গ্রামীণ প্র্যাকটিশনার পদ তৈরির করা হবে বলে ঘোষণা করেছিল। ডাক্তারের ফোরামের দাবি, নার্স প্র্যাকটিশনার তৈরি করলেই ডাক্তারদের অভাব মেটানো সম্ভব নয়। ডাক্তার হওয়ার জন্য অত্যন্ত কঠিন এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করতে হয়, পাঁচ থেকে ছয় বছরের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট পরিকাঠামো মেনে পড়াশোনা, পরীক্ষা ইত্যাদির পরেই ডাক্তার হওয়া যায়। কাজেই নার্সদের পদোন্নতি দিলেই চিকিৎসা পরিষেবার মান উন্নত হবে না, বরং গ্রামীণ এলাকাগুলিতে যদি নন-রেজিস্টার্ড প্র্যাকটিশনার পদ তৈরি হয়ে যায় তাহলে নিম্নমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন মানুষজন।
আয়ুষ ডক্টর’স ফোরামের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসূচী মেনে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই নার্সদের ছয় মাসের প্রশিক্ষম নিয়ে ‘কমিউনিটি হেলথ অফিসার’পদে উন্নীত করে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে নিয়োগ করেছে। নার্সদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে। বর্তমানে টেলিমেডিসিন পরিষেবায় তাঁদের ডাক্তার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, এইভাবে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে বহু মানুষ ডাক্তার দেখানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভুল চিকিৎসাও হচ্ছে অনেকের। জটিল রোগ সঠিক সময় ধরা যাচ্ছে না। ফোরামের দাবি, এইভাবে জনগনের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে ছিনিমিনি না খেলে বরং ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট বা টোকনোলজিস্টদের তাঁদের যোগ্যতা মতো নিজ নিজ পদে উন্নীত করা হোক।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বিশিষ্ট চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেছেন, সরকার যদি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে খুব সাবধানে এগোতে হবে। কারণ ডাক্তারদের কমিউনিটি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারে।
সরকারি চিকিৎসক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মানস গুমটা এই প্রসঙ্গে বলেন, নার্স প্র্যাকটিশনার পদ তৈরি হলে ডাক্তারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। ফলে চিকিৎসায় সমস্যা হবে।