দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিমুদ্দিনের ম্যানেজারদের অনুরোধ গিয়েছিল বসন্ত রায় রোডে প্রয়াত সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের কাছে। একবার মরদেহ সিপিএমের রাজ্য দফতরে আনার জন্য। কিন্তু পরিবারের লোকেরা সোমনাথবাবুকে বহিষ্কার করা দলের নেতাদের অনুরোধ রাখেননি। মরদেহে লাল পতাকা দেওয়ার অনুরোধও ফিরিয়ে দিয়েছেন মুখের উপরে। সোমনাথবাবুর বুকে জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, দুঃখ ফেটে বেরলো অন্যভাবে। তাঁর পুত্র প্রতাপ চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে। দু'দুবার সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য তথা বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে বাড়িতে ঢুকতে দিলেন না প্রতাপবাবু।
সোমবার সন্ধে বেলা সূর্যকান্ত মিশ্র, সুজন চক্রবর্তীদের সঙ্গেই বিমানবাবুও সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যান বসন্ত রায় রোডের বাড়িতে। সূর্য, সুজনরা ভিতরে গেলেও বিমানকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সোমনাথ পুত্র। চিৎকার করে বলেন, “আপনি এখানে এসেছেন কেন? আপনি স্বাগত নন। সারাজীবন আমার বাবাকে চুষে খেয়েছেন।” কথা না বাড়িয়ে বিমান বসুও বেরিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি আসেন সেখানে। বিমানবাবু সীতারামের সঙ্গে বাড়িতে ঢুকতে গেলে আবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বার পুলিশকে বলেন, “উনি এখানে অনধিকার প্রবেশ করছেন।” দ্বিতীয়বারেও ফিরে আসতে হয় বিমান বসুকে। পরে অবশ্য পরিবারের অন্যান্য লোকেদের হস্তক্ষেপে ভিতরে যান বিমান বসু।
[caption id="attachment_27178" align="aligncenter" width="720"]
পরিবারের হস্তক্ষেপে অবশেষে ভিতরে ঢোকেন বিমান বসু[/caption]
এমনিতে সোমনাথবাবুর সঙ্গে বাংলার অনেক সিপিএম নেতাদের শেষ দিন পর্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। শুধু বাংলার নেতারা কেন, ইয়েচুরিকেও অত্যন্ত স্নেহ করতেন সোমনাথ। সিপিএমের হায়দ্রাবাদ পার্টি কংগ্রেসের আগে যখন নির্বাচনী লাইন নিয়ে বিতর্ক চলছে, সেই সময় একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক বলেছিলেন, “প্রকাশ কারাটের লাইন জেতা মানে বিজেপি’র জয়।” বছর দুয়েক আগে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বোলপুরের বাড়ি গিয়ে তাঁর স্ত্রীর হাতের মুগ ডাল, পোস্তর বড়া দিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজও সেরে এসেছিলেন সীতারাম, শ্যামল চক্রবর্তী।
[caption id="attachment_27179" align="aligncenter" width="456"]
সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বীরভূমের বাড়িতে সীতারাম ইয়েচুরি এবং শ্যামল চক্রবর্তী[/caption]
সিপিএম-এর অনেকের মতে বিমান বসু পার্টি লাইন অনুযায়ী কট্টরপন্থী হওয়ার কারণেই সোমনাথবাবুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না। অনেকের মতে, বিমান বসু যেমন কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রশ্নে জ্যোতি বসুর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন তেমনই সোমনাথ চট্টোপধ্যায়ের বহিষ্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। সেই কারণেই সোমনাথ পুত্রের এই প্রতিক্রিয়া বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে।