দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেন বিতর্কে বসার। মঙ্গলবার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শাহ। লখনউয়ের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিররোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "ক্ষমতা থাকলে জনসমক্ষে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিতর্কে বসুন।"
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের নাম করেও চ্যালেঞ্জ ছোড়েন সদ্য প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি। এদিন জনসভায় শাহ বলেন, "বিরোধীরা বাস্তবটা দেখতে পাচ্ছে না। কারণ ওদের চোখে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির চশমা লাগানো আছে।"
সারা দেশে এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন যতই তীব্র হোক তা থেকে পিছিয়ে আসার কোনও জায়গা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন শাহ। তিনি বলেন, "যে যতই আন্দোলন করুক, আমরা ভয় পাচ্ছি না। আর এই আইন প্রত্যাহারেরও কোনও প্রশ্ন নেই।"
এদিন উত্তরপ্রদেশের বিজেপির তরফে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে এই সমাবেশ ডেকেছিল। সেই মঞ্চে শাহ বলেন, "প্রতিদিন কংগ্রেস, তৃণমূল, এসপি, বিএসবি মিথ্যে কথা বলছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আমি আপনাদের নিশ্চিন্ত করছি, এই আইনে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। এই আইন সে জন্য তৈরি হয়নি। এটা উদ্বাস্তু মানুষকে সম্মান দেওয়ার আইন।"
এদিন বিরোধীদের উদ্দেশে তীব্র আক্রমণ শানান শাহ। তিনি বলেন, "দেশভাগের সময়ে হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈনরা ছিল পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ। আজ সেটা এসে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানে ৩ শতাংশ আর বাংলাদেশে ৭ শতাংশ। যারা আজকে এই আইনের বিরোধিতা করছে তারা তখন কোথায় ছিল?"
এদিনের বক্তৃতাতেও দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্নগ তোলেন শাহ। বলেন, "জেএনইউতে কিছু ছেলে-মেয়ে ভারতকে টুকরো করার স্লোগান দিচ্ছে। ভারতমাতার অপমান হলে জেলে ধোকানো উচিত কি না? ভারতমাতার অপমা বরদাস্ত করা হবে না।" টুকরো করার স্লোগানের কথা বললেও এদিন তাঁর মুখে শোনা যায়নি 'টুকরে টুকরে গ্যাং' শব্দবন্ধ। কারণ গতকালই অমিত শাহের দফতর তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় তোলা এক প্রশ্নের উত্ততরে জানিয়েছে 'টুকরে টুকরে গ্যাং' সম্পর্কে তারা কিছু জানে না। কোনও গোয়েন্দা রিপোর্টেও সেকথা বলা হয়নি।