
শেষ আপডেট: 15 June 2020 06:15
দু'দিন আগেই মেট্রো রেলের সেফটি কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল ফুলবাগান মেট্রো স্টেশনের সমস্ত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। তাঁদের সবুজ সংকেতের পরেই ঝকঝকে স্টেশনের ছবি টুইট করে রেলমন্ত্রী লিখেছেন, "কলকাতার পূর্ব পশ্চিম মেট্রো করিডোরের সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। এই করিডোরের প্রথম মাটির নিচের স্টেশন হবে ফুল বাগান। এই স্টেশনের মাধ্যমে শহরের অন্য প্রমুখ স্থানে বড় সংখ্যক যাত্রী সুগমে যাতায়াত করতে পারবেন।"
https://twitter.com/PiyushGoyal/status/1272128308600123392
বউ বাজার বিপর্যয়ের কারণে মেট্রো প্রকল্পের কাজ কিছুটা ধাক্কা খায়। কিন্তু আংশিক ভাবে তা শুরু করতে দেরি করেনি কেন্দ্রে। অনেকের মতে, পীযূষ গোয়েলদের লক্ষ্য হল একুশের ভোটের আগে ফুলবাগান পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের কাজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দিয়ে উদ্বোধন করানো।
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর উদ্বোধন অনুষ্ঠান নিয়ে কম রাজনৈতিক চাপানউতর হয়নি বাংলায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম কার্ডে না থাকা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সংকীর্ণ রাজনীতির অভিযোগ তোলে তৃণমূল। ওই অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় কলকাতার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং স্থানীয় বিধায়ক সুজিত বসু এবং সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নাম থাকলেও তাঁরা সেখানে যাননি। তৃণমূলের বক্তব্য ছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে না ডেকে বাংলার মানুষকে অপমান করেছে কেন্দ্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, "ওরা একবার ডাকল না!"
যদিও ওই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বাম-কংগ্রেস। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছিলেন, "মুখ্যমন্ত্রী আত্মবিলাপ করতে পারেন কিন্তু প্রতিবাদ করার জায়গা নেই।" কারণ তাঁদের বক্তব্য, ১১ সালে সরকারে আসার পর থেকে রাজ্য সরকারের কোনও কর্মসূচিতে স্থানীয় বিধায়ক যদি বিরোধী দলের হন তাঁকে ডাকা হয় না।
প্রসঙ্গত, কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণের যে কাজ হয়েছে তার কোনও স্টেশনই পাতালে নয়। উত্তরে নোয়াপাড়া বা দক্ষিণে গড়িয়া-- সব স্টেশনই উপরে। সেদিক থেকে প্রায় আড়াই দশক পর কলকাতায় ফের কোনও মেট্রো স্টেশন মাটির নীচে তৈরি হল। পর্যবেক্ষকদের মতে, ফুলবাগান পর্যন্ত মেট্রো শুরু হলে অনেক মানুষের সুবিধা হবে। শিয়ালদহ থেকে যাঁরা সল্টলেকে আসেন তাঁরা একটা কোনও অটো বা বাস ধরে ফুলবাগান চলে এলে মেট্রো ধরেই পৌঁছে যেতে পারবেন বিকাশ ভবন কিংবা সেক্টর ফাইভে। তাতে সময়ও বাঁচবে অনেকটাই।