
শেষ আপডেট: 13 July 2019 09:31
পরদিন সকালে আউটডোরের ডাক্তার ইউ কে মজুমদার রুপেনবাবুর কান দেখে তো আঁতকে ওঠেন। বলেন, করেছেন কী মশাই? কী করে ভেতরে ঢোকালেন এত বড় আরশোলাটাকে! আরশোলাটার সামনের অংশই তো রয়ে গেছে ভেতরে। আউটডোরে থাকা যন্ত্রপাতি দিয়ে ডাক্তারবাবু আরশোলাটি বার করার চেষ্টা করেন। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন রুপেনবাবু।
আরশোলাটির পিছনের অংশ আগের দিনের ডাক্তারবাবু বার করতে পারলেও সামনের অংশটা কানের ভেতরেই রয়ে গেছে। আউটডোরের ডাক্তারবাবু জানান, এ ভাবে আর আরশোলাটিকে টানাটানি করা উচিত হবে না। কারণ আরশোলাটি ভয়ঙ্কর ভাবে রুপেন বাবুর কানের পর্দা কামড়ে ধরেছিল। আরশোলাটি মারা গেলেও সে এমন মরণ কামড় দিয়ে গেছে যে বেশি টানাটানি করলে কানের পর্দাটি ছিঁড়ে যেতে পারে।
ডাক্তার মজুমদার রুপেনবাবুকে জানান উপায় নেই, ওটি করতেই হবে। সেই মতো রোগীকে এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালের দশতলা নতুন বিল্ডিং-এর ন'তলার ওটিতে পাঠিয়ে দেন। লোকাল অ্যানাস্থেসিয়া করে আধ ঘন্টার চেষ্টায় সন্তর্পণে কেটে কেটে বার করা হয় আরশোলাটিকে। ডাক্তার মজুমদার রুপেনবাবুকে জানান, আরশোলাটিকে গত রাতে যখন বার করার চেষ্টা করা হয়েছে, যন্ত্রণায় ও আক্রোশে সে কানের পর্দাটিকে কামড়ে ক্ষত বিক্ষত করে গেছে। তাই যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন রুপেনবাবু।
তবে সফলভাবে আরশোলাটিকে বার করা গেছে, এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালের সময়োচিত তৎপরতায় এ যাত্রায় বেঁচে গেলো রুপেনবাবুর কান। চিকিৎসক জানিয়েছেন, "ভাগ্যিস উনি সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এসেছিলেন। ফলে কানের পর্দাটি বাঁচানো গেছে। না হলে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারতো।"