দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দক্ষিণ দিনাজপুরে আন্তর্জাতিক হিলি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মিলে গেল দুই বাংলা – এপারের পশ্চিমবঙ্গ এবং ওপারের বাংলাদেশ। স্লোগান দেওয়া হল --‘এপার বাংলা ওপার বাংলা, বাংলা ভাষার মেল বন্ধনে হই একাকার’। এপারের প্রতিনিধিদের সম্মান জানালেন ওপারের উদ্যোক্তারা।
হিলির তিওড়ের ‘উজ্জীবন সোসাইটি’ এবং বাংলাদেশের দিনাজপুরের ‘আমরা মুক্তি যোদ্ধার সন্তান কমান্ড’ ও ‘সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্ত’ গত পাঁচ বছর ধরে একযোগে উদ্যোগী হয়ে মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে আসছে। শুক্রবার সকাল ন’টায় এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা যৌথ ভাবে অস্থায়ী শহিদ মিনারে ফুল ও মালা দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
দেশ আলাদা হলেও ভাষার টানে এদিন এক হয়ে যায় দুই বাংলা। একযোগে মাতৃভাষা দিবস পালন করেন দুই বাংলার মানুষজন। উজ্জীবন সোসাইটির সম্পাদক সুরজ দাশ, ‘উত্তরের রোববার’-এর কবি বিশ্বনাথ লাহা, কবি ও গল্পকার গগন ঘোষ, সমাজসেবী বিনয় আগরওয়াল, দীপক ঘোষ, অমূল্যরতন বিশ্বাস, নবকুমার দাস প্রমুখ প্রতিনিধিত্ব করেন এপার বাংলার। ওপার বাংলা থেকে ছিলেন সাপ্তাহিক ‘আলোকিত সীমান্ত’-এর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড’-এর কর্ণধার লিয়াকত আলি প্রমুখ।
এরপর ভারতের কবিরা একুশের বইমেলায় বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মঞ্চে কবিতা পাঠ করেন। ভারতের কবি-সাহিত্যিক ও শিল্পী সমন্বয়ের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক দেন বগুড়ার ‘ইন্দো-বাংলা ট্যুরিজম সাংবাদিক ফোরাম’।
দুই বাংলার মধ্যে সাংস্কৃতিক মেল বন্ধন গড়ে তোলার জন্য আয়োজক সংস্থার পক্ষে বিশেষ ভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছেন মাজেদ রহমান, কমলেশ মোহন্ত শানু ও জিয়া শাহিন।
দেশভাগের পরে ঊর্দুর বদলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালে আন্দোলন শুরু হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে। বাংলা ভাষার দাবিতে রক্ত ঝরেছিল। দাবি আদায় হয়েছিল শেষ পর্যন্ত। আরও পরে জন্ম হয় নতুন একটি দেশের, যে দেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। ১৯৯৯ সালে সেই আন্দোলনকে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো, ২১ ফেব্রুয়ারিকে ঘোষণা করা হয় আন্তর্জাতির মাতৃভাষা দিবস হিসাবে।