দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত দু'বছরে করোনা ও লকডাউনে ঘরবন্দি মানুষ বহু ক্ষেত্রেই ডিজিটাল লেনদেনে সাবলীল হওয়ার চেষ্টা করছেন। অবসর যাপনেও বেড়েছে নেট-নির্ভরতা। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই বেড়েছে অনলাইন প্রতারণা (Cyber Crime)। এছাড়াও সামনেই পুজো। অনলাইনে অফারের ছড়াছড়ি। কোনও কিছুতে ক্লিক করার আগে সাবধান হতে বলছেন সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন সতর্ক হোন। সাইবার দুনিয়ায় চোখ খুলে পা ফেলুন। তাহলেই এড়ানো যাবে বিপত্তি। কয়েকটি জিনিস খেয়াল রাখলে অনলাইন জালিয়াতির হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। মূলত কীভাবে এই জালিয়াতি হয়, জেনে নিন।
এক
গুগল পে, পেটিএম বা অন্য ইউপিআই অ্যাপ পরিষেবা সংস্থার কর্মী পরিচয়ে অনেক সময় ফোন আসে। যেখানে ব্যাঙ্কের সঙ্গে ইউপিআই অ্যাপটি যুক্ত করার জন্য কেওয়াইসি আপলোড করতে বলা হয়। পাঠানো হয় এসএমএস। যাতে ক্লিক করলেই আপনার পাসওয়ার্ড জেনে নিতে পারে অপরাধীরা।
দুই
অনেকেই কোনও জিনিস বিক্রি করতে চেয়ে বিভিন্ন সাইটে বিজ্ঞাপন দেন। আগ্রহী ক্রেতারা কল করেন। যদি ক্রেতা আপনাকে বুকিং মানি পাঠানোর পরিবর্তে মানি রিকোয়েস্ট পাঠান, তাহলে ভালো করে যাচাই করুন। আপনি জাতিয়াতির শিকার হতে পারেন।
তিন
কোনও অফারের বিষয়ে কোনও সংস্থা থেকে ফোন এলেই তথ্য দেবেন না। এসব ক্ষেত্রে গ্রাহকের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নতুন সিম কার্ড ইস্যু করে অপরাধীরা। একবার প্রতারক আপনার ফোন নম্বর পেয়ে গেলে, তারা তাদের সিম কার্ডে ওটিপি পাবে। এর মাধ্যমে তারা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার শুরু করতে পারে এবং এমনকি ওটিপি পাওয়ার পরে অনলাইনে কেনাকাটাও করতে পারে। এয়ারটেল, ভোডাফোন বা জিও থেকে নির্বাহী একজন ব্যক্তি হিসেবে ফোন করে এই প্রতারণা শুরু হয়। তিনি তখন আপনাকে জিজ্ঞাসা করেন যে কল ড্রপ সমস্যা, সিগন্যাল রিসেপশন বা মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য এটি একটি নিয়মিত কল। কিন্তু তাদের অভিসন্ধি আলাদা। সুতরাং সাবধান।
চার
অনের সময়ই অনলাইন পরিষেবা বা কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্যাশব্যাক অফার থাকে। প্রতারকরা জনপ্রিয় ই–কমার্স সাইটের নামে ফোন করে। এবং দাবি করে আপনার সাম্প্রতিক কোনও লেনদেনের জন্য আপনি ক্যাশব্যাক পাবেন। এরপর সে আপনার ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য চাইবে। যা দিতেই আপনি ফাঁদে পড়বেন।
পাঁচ
প্রতারকরা এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে লিঙ্ক পাঠায় যা প্রাপককে তার গোপনীয় বিবরণ যেমন গ্রিড কার্ডের বিবরণ, এটিএম কার্ড পিন, ইউপিআই পিন, ডেবিট কার্ড নম্বর এবং সিভিভি শেয়ার করতে বলে।
এরপর ফোন করে আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি চাইবে। প্রতারক আপনার ফোনে অ্যাক্টিভেশন এসএমএস ফরওয়ার্ড করে যা পরবর্তীতে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে ব্যবহৃত হবে। সুতরাং কোনও ওটিটি কখনও কাউকে বলবেন না। ফোনে তো নৈব নৈব চ।
ছয়
মোবাইলে বা ল্যাপটপে কোনও লিঙ্ক এলেই ক্লিক করবেন না। লিঙ্কের আগে ‘https://’ লেখা রয়েছে কি না দেখে নিন। যে কোনও ওয়েবসাইটের নাম ভাল করে পড়ুন। করোনায় গ্রাহকদের সামনে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে অনেক অনলাইন প্রতিষ্ঠান। পণ্য কেনাকাটায় গ্রাহকদের দেয়া হচ্ছে লোভনীয় অফারের টোপ। ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকেই৷ এই সাইটগুলিকে বলা হয় ‘ফিশিং সাইট বা পেজ’ ৷
সাত
‘ফিশিং পেজ’–এ থাকে চোখধাঁধানো অফার। সুরক্ষাবিধি এড়াতে একমাত্র মোবাইল ওয়ালেট থেকে টাকা দেওয়ার অপশন থাকে। এইভাবেই প্রতারিত হন গ্রাহকরা৷ অর্ডার করা পণ্য হাতে আসে না৷ ফেরত পাওয়া যায় না টাকাও ৷
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'