শেষ আপডেট: 4 June 2020 01:30
পাথরপ্রতিমার কলেজ গ্রাউন্ডে তৈরি হেলিপ্যাড[/caption]
উমফানের ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য অন্তর্বর্তী সাহায্য হিসাবে ১ হাজার কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তা ঘোষণা করার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সেই টাকা রাজ্যের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। স্বাভাবিক ভাবেই আগের অনুদানকে ‘অন্তর্বর্তী’ আখ্যা দেওয়ার অর্থই হল বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে কেন্দ্র আরও অর্থ অনুমোদন করবে।
যে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল কেন্দ্র পাঠাচ্ছে তার নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অনুজ শর্মা। তাঁর সঙ্গে রয়েছে কৃষিমন্ত্রকের ডিরেক্টর নরেন্দ্র কুমার, মৎস্য দফতরের অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার আর পি দেবে, অর্থমন্ত্রকের ডিরেক্টর এস সি মিনা প্রমুখ।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পাথরপ্রতিমা, ব্রজবল্লভপুর, রামগঙ্গা, ভাড়াতলা এলাকা ঘুরে দেখবে ওই প্রতিনিধি দল। উত্তর চব্বিশ পরগনার ধামাখালি, সন্দেশখালি এলাকা তাঁরা পরিদর্শন করবেন।
সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রের এই প্রতিনিধি দলের সমীক্ষা ও রাজ্য সরকারের সমীক্ষা পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত অনুদানের অঙ্ক স্থির করা হবে।
প্রসঙ্গত, ওড়িশায় ফণী ঘূর্ণিঝড়ের পর ক্ষতিপূরণের জন্য মোট ৪৬৭৯.২২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল কেন্দ্র। প্রথমে অগ্রিম হিসাবে ১৩৪১ কোটি টাকা দিয়েছিল মোদী সরকার। পরে গত বছর অগস্ট মাসে, অর্থাৎ ফণী তাণ্ডব চালানোর তিন মাস পর আরও ৩৩৩৮.২২ কোটি টাকা অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
ওড়িশায় ফণী ঘূর্ণিঝড়ের সময় মোট ১৫.৫ লক্ষ (ঝড়ের আগে ও পরে মিলিয়ে) লোককে সরিয়ে ত্রাণ শিবিরে রেখেছিল প্রশাসন (উমফানের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ৬ লক্ষ লোককে সরিয়ে ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে)। তা ছাড়া ফণীর অভিঘাতে প্রভাবিত হয়েছিলেন ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ। ১.৮৮ লক্ষ হেক্টর চাষযোগ্য জমির ক্ষতি হয়েছিল। ৫,৫৬,৭৬১টি বাড়ি পুরো বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সে বারের ঘূর্ণিঝড়ে। তা ছাড়া ২৬৫০টি বড় পশু, ৩৬৩১ টি ছোট পশু এবং ৫৩ লক্ষ পোলট্রির মুরগি মারা গেছিল।