দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: রায়গঞ্জে পথকুকুরদের মধ্যে ক্যানাইন ডিসটেম্পার রোগ দেখা দেওয়ায় চিন্তিত পশুপ্রেমীরা। এই ঘটনায় অবাক প্রাণিসম্পদ বিভাগও। রোগের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে মৃত কুকুরগুলির দেহ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
করোনা আবহের মধ্যে এবার পথকুকুরদের ছোঁয়াচে রোগে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাসের সংক্রমণে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে মৃত্যু হয়েছে সাতটি পথকুকুরের। ছোঁয়াচে ক্যানাইন ডিসটেম্পারের কোপে শহরে একের পর এক পথকুকুরের মৃত্যুতে আশঙ্কা গোটা শহরে। ইতিমধ্যেই সংক্রামিত ওয়ার্ডগুলি স্যানিটাইজ করেছে রায়গঞ্জ পুরসভা। আক্রান্ত পথকুকুরদের আইসোলেশনে রাখারও দাবি তুলছে পশুপ্রেমী সংস্থাগুলো।
শুধুমাত্র রায়গঞ্জ শহরের দেবীনগরের সুকান্ত পল্লি এলাকায় গত তিন দিনে চারটি পথকুকুরের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুকুরগুলির মৃত্যুর আগে উপসর্গ মূলত একই ছিল। তাদের শরীরের পিছনের অংশ ও পাগুলো অবশ হয়ে যাচ্ছিল, মুখ ও নাক দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে যন্ত্রণায় ছটফট করতেও দেখা গেছে কুকুরগুলিকে।
এই কয়েকটি উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরে কুকুরগুলিকে এক থেকে দু’ঘণ্টা বাঁচতে দেখা যাচ্ছে। তবে একটি কুকুর এক দিন এবং একটি কুকুর এই উপসর্গ নিয়ে দু’দিন বেঁচে ছিল। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী রায়গঞ্জ শহরে এই উপসর্গ নিয়ে অন্তত সাতটি কুকুরের মৃত্যু হয়েছে।
পশুপ্রেমী সংস্থা উত্তর দিনাজপুর পিপলস ফর অ্যানিম্যালের সম্পাদক গৌতম তাঁতিয়ার কথায়, “এই মুহূর্তে শহরে পঁচিশটির মতো কুকুর এই রোগে আক্রান্ত। এই রোগ নতুন নয়। বাড়িতে পোষা কুকুরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে তাদের এই রোগ হয়। পথকুকুরদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয় বলে তাদের এই রোগ হয় না। তাদের আক্রান্ত হতে দেখে আমরা অবাক হচ্ছি।”
সুকান্তপল্লির বাসিন্দাদের বক্তব্য, “আমাদের চোখের সামনে প্রাণীগুলো মারা গেল অথচ আমরা কিছুই করতে পারলাম না।”
স্থানীয় কাউন্সিলর অভিজিৎ সাহা বলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন। প্রথমে একটি কুকুর আক্রান্ত হয়৷ আমরা পশুপ্রেমী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। ওরা এসে জানায় ক্যানাইন ডিসটেম্পার রোগে আক্রান্ত হয়েছে ওই কুকুরগুলো। ভাইরাস জনিত কারণে এই রোগ হচ্ছে। এটা ভীষণ ছোঁয়াচে। পরে এলাকার আরও তিনটি কুকুর আক্রান্ত হয়। এরপরেই আমরা প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু ওঁদের চিকিৎসক আসার আগেই রোগাক্রান্ত কুকুরগুলির মৃত্যু হয়। আমরা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এলাকা স্যানিটাইজড করি। আমার ওয়ার্ডে সুকান্তপল্লি ছাড়া আর কোথাও সংক্রমণ নজরে আসেনি।”
তবে রায়গঞ্জ শহরের আরও কয়েকটি জায়গায় এই ধরনের ভাইরাস আক্রান্ত কুকুর দেখা গেছে। মাধবী চন্দ নামে এক পশুপ্রেমী রমেন্দ্রপল্লি এলাকায় আক্রান্ত পথকুকুরদের শুশ্রূষা করছিলেন মঙ্গলবার দুপুরে। তিনি দাবি করেছেন, ওই এলাকাতেও একই উপসর্গ নিয়ে কয়েকটি কুকুরের মৃত্যু ঘটেছে৷
উত্তর দিনাজপুরের প্রাণিসম্পদ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর পঙ্কজ মণ্ডল বলেন, “রায়গঞ্জ শহরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমাকে ঘটনার কথা জানান। আমাদের চিকিৎসক পৌঁছনোর আগে ওই পথসারমেয়গুলি মারা যায়। উত্তর দিনাজপুর পিপলস ফর অ্যানিম্যাল আমাদের বিষয়টি জানিয়েছেন। ওই উপসর্গে মৃত কোনও সারমেয়র দেহ ময়নাতদন্ত না করে নিশ্চিত ভাবে বলা উচিত নয় যে ক্যানাইন ডিসটেম্পারের জন্যই কুকুরগুলির মৃত্যু হয়েছে। এই রোগ সাধারণত গৃহপালিত কুকুরের মধ্যেই দেখা যায়। তবে পশুপ্রেমী সংস্থা ও কাউন্সিলর যে উপসর্গের কথা বলেছেন তা ক্যানাইন ডিসটেম্পার রোগেই দেখা যায়। আমরা নজর রাখছি। এই ধরনের উপসর্গে কোনও কুকুরের মৃত্যু হলেই ময়নাতদন্ত করে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।”