দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং বাধা দিতে এলে.তার মাকে খুনের ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরেই উত্তাল বাগনান। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সদস্যা রমা বেরার স্বামীকে চাপে পড়ে গ্রেফতারও করে পুলিশ। কিন্তু বিজেপির অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে লঘু ধারা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া যে বিজেপি কর্মীরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রথম দিন থানা ঘেরাও করেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো হচ্ছে বলে শনিবার বাগনানে গিয়ে অভিযোগ করলেন রাহুল সিনহা।
বিজেপি নেত্রী তথা আইনজীবী নাজিরা এলাহি বলেছেন, “শুধুমাত্র ৫১১ ও ৩০২ ধারায় পুলিশ মামলা করেছে। অন্য কোনও ধারা যোগ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।” হত্যার মামলায় ৩০২ ধারায় মামলা হয় এবং সাধারণ অপরাধেও ৫১১ ধারায় মামলা করা হয়। কিন্তু ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা, একজনকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ ভাবে অসৎ উদ্দেশে অন্যের বাড়িতে প্রবেশের মতো অপরাধের কোনও ধারা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইতিমধ্যেই রমা বেরাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। শাসকদলের নেতারা জানিয়েছেন, "প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে বলেই ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে।" তা ছাড়া শাসকদলের আরও দাবি, ধর্ষণের চেষ্টা ও খুনে.অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কুশ বেরা দলের কেউ নয়। তাই দলগত ভাবে পদক্ষেপের সুযোগ নেই।
এদিন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলটাই টিকে রয়েছে খুনি, ধর্ষক, তোলাবাজদের নিয়ে। পুলিশ ইচ্ছে করে হালকা কেস দিয়েছে যাতে তাড়াতাড়ি জামিন পেয়ে যায়!" তিনি আরও বলেন, "দেখলেন না দু'দিন আগে কোচবিহারে কী হল! শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে যে নেতাকে গত মাসে বহিষ্কার করেছিল তাকেই আবার দলের কর্মসূচিতে চেয়ার পেতে দিয়েছে। এটাই তৃণমূলের চরিত্র।"
যে মহিলাকে কুশ বেরা ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দিয়েছিলেন তাঁর নিকট আত্মীয় স্কুল পড়ুয়াকে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে কুশের ভাইপো তন্ময় বেরার বিরুদ্ধে। কিন্তু শনিবারও কেন তন্ময় বেরাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।
মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় তৃণমূল নেতা কুশ বেরা গাছ বেয়ে ছাদে নেমে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করতে যায়। অভিযোগ, চিৎকার শুনে তাঁর মা ছাদে চলে এলে তাঁকে সেখান ঠেলে ফেলে দেয় কুশ বেরা ও তার সঙ্গী সুমন মণ্ডল। তাতে ছাত্রীর মায়ের মৃত্যু হয়।
বুধবার ঘটনাস্থলে যান বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও সৌমিত্র খাঁ। তারপরে একপ্রকার চাপে পড়েই এফআইআর গ্রহণ করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার হয় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা।
শুক্রবার বাগনানে বিক্ষোভ দেখাতে যায় বাম ছাত্র-যুব-মহিলা সংগঠনগুলি। নিহত মহিলার মেয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর এবং পরিবারের লোকজনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। ওই ছাত্রী বলেন, "যারা আমার মাকে মেরে ফেলল, তারা আবার আমার উপর হামলা করতে পারে।" সব মিলিয়ে শনিবারও উত্তপ্ত বাগনান।