দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহে টানা বৃষ্টির পরে আপাতত চড়া রোদের তেজ আর চরম আর্দ্রতার কারণে হাঁসফাঁস করছেন দক্ষিণবঙ্গবাসী। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ক্রমশ উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হয়েছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গ থেকে বিদায় নিয়েছে বৃষ্টি। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলাতেই ছিটেফোঁটা বৃষ্টিও হয়নি।
তবে নিম্নচাপ সরে যাওয়ার পর থেকে চড়চড় করে বেড়েছে তাপমাত্রা। একধাক্কায় পারদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণও বেড়েছে। ভ্যাপসা গুমোট গরমে নাজেহাল হচ্ছেন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলার বাসিন্দারা। আপাতত কোনও নিম্নচাপ তৈরি সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে হওয়া অফিস। এবং সেই সঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই।
আজ সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়া, যা স্বাভাবিকের থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি। গতকাল শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৫৩ থেকে ৯৮ শতাংশ। আজ দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
তবে দক্ষিণবঙ্গে ভ্যাপসা গুমোট গরম আর রোদের তেজ থাকলেও উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আজ সোমবার উত্তরবঙ্গের কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সর্তকতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। ভারী বৃষ্টির সর্তকতা রয়েছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার---এই তিন জেলায়। আগামিকাল অর্থাৎ মঙ্গলবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায়। অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই পাঁচ জেলা ছাড়াও মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে এই দু'দিন।
নিম্নচাপের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে এখন ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছে ওড়িশা, বিহার, গুজরাত, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে। মূলত সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখার তার অবস্থান বদল করছে। যার প্রভাবেও তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে উত্তর, মধ্য, পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। বৃষ্টির দাপট রয়েছে দক্ষিণের উপদ্বীপীয় অঞ্চলেও।
বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ওড়িশা এবং মধ্যপ্রদেশে। দুই রাজ্যেই জলমগ্ন হয়েছে একাধিক জেলা। জলবন্দি হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বন্যা কবলিত এলাকা থেকে দুর্গতদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।