
শেষ আপডেট: 17 January 2024 21:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর ষোলোর কিশোরী। পিঠে একখানা ব্যাগ। ইতস্ততভাবে অনেকক্ষণ স্টেশনের ল্যাজা মুড়ো পায়চারি করছে। চোখ-মুখের ভাবগতিকও ভাল নয়। রেল পুলিশের এক অভিজ্ঞ মহিলা কর্মীর সন্দেহ হয়। কাছে ডেকে জেরা শুরু করতেই অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করে কিশোরী।
ঘটনাস্থল, জলপাইগুড়ি স্টেশন। কিশোরীটিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জেরায় রেল পুলিশকে সে জানায়, দশম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা-মা মারা গেছে আগেই। মাসির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে।
রেল পুলিশকে সে আরও জানায়, পড়াশোনা করে নিজের পায়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই সে। কিন্তু মাসির অশান্তিতে ঠিক করে পড়াশোনা করতে পারে না। তাই অন্যত্র থেকে কাজ করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত।
আরপিএফের মহিলা আধিকারিক রুনু বর্মন বলেন, নাবালিকা মেয়েটি একা একা প্ল্যাটফর্মে ঘোরাঘুরি করছিল। ওর আচরন অস্বাভাবিক লাগায় আমরা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এরপর মেয়েটি আমাদের সব কথা জানায়। পরে ওর মাসিকেও থানায় ডেকে জেরা করা হয়। দেখা যায়, মেয়েটি সত্যি কথায় বলেছে।
এরপরই রেল পুলিশের উদ্যোগে স্থানীয় একটি সরকারি হোমে মেয়েটির থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপাতত ওই হোমে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাবে সে।
রেল পুলিশের মহিলা আধিকারিককে ধন্যবাদ জানিয়ে কিশোরীটি বলছে, "মাথা গরম করে মাসির বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু স্টেশনে পৌঁছে বুঝতে পারছিলাম না, কোথায় যাব? তিনকুলে তো কেউ নেই। ভাগ্যিস রেলের ওই পুলিশ দিদি এগিয়ে এলেন।"