দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়খণ্ডের ভোটের আগে যতগুলি সমীক্ষা হয়েছে তার কোনওটিতেই বিজেপি যে দারুণ সুবিধেজনক জায়গায় রয়েছে, এমন ছবি উঠে আসেনি। মহারাষ্ট্রে ধাক্কা খাওয়ার পর এখন ঝাড়খণ্ডের দিকেই চোখ রাজনৈতিক মহলের। কিন্তু ভোটের মাঝেই ঝাড়খণ্ড বিজেপিতে ধাক্কা লাগল। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়ে দিলেন রাজ্যের ঝাড়খণ্ড বিজেপির প্রধান মুখপাত্র প্রবীণ প্রভাকর। শুধু ছেড়েই দিলেন না, যোগ দিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কোনার্ড সাংমার দল ন্যাশনালিস্ট পিপলস পার্টিতে। ওই দলের হয়েই নালা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়বেন তিনি। শেষ দফায় অর্থাৎ ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নালার নির্বাচন।
রবিবার একটি অনুষ্ঠানে নতুন দলে যোগ দেন প্রভাকর। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মেঘালয়ের শাসক দলের শীর্ষ সারির নেতারা। গত পাঁচবছরে ঝাড়খণ্ডের রিজিওনাল সংবাদ মাধ্যমে প্রভাকরই ছিলেন বিজেপির মুখ। বিতর্ক সভা থেকে দলের তরফে কোনও ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়া—সবেতেই দেখা যেত এই নেতাকে। কিন্তু নতুন দলে যোগ দিয়ে প্রভাকর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। কিন্তু ঝাড়খণ্ড বিজেপির আত্মসমীক্ষার সময় এসেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রভাকরের দল ছাড়া হয়তো বিরাট কোনও ঘটনা নয়, বৃহত্তর রাজনীতিতে হয়তো এর বিরাট কোনও প্রভাবও পড়বে না, কিন্তু এটা সামগ্রিক ভাবে একটা ইঙ্গিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের মাঝে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দলের শীর্ষ সারির নেতা যদি দল ছেড়ে হাটের মাঝে আত্মসমীক্ষার কথা বলেন, তাহলে বুঝতে হবে ভিতর ভিতর অসুখটা অনেক বড়।
রাজনৈতিক মহলের অনেকে এও বলছেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি দুর্বল হলে বাংলায় তৃণমূলেরও সুবিধে। কারণ, সেই পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই দেখা যাচ্ছে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া এলাকাগুলিতে বিজেপি ভাল ফল করছে। বাংলার শাসক দলের নেতারা কথায় কথায় প্রায়ই বলেন, বিজেপি ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় লোক ঢোকাচ্ছে। ফলে ওই রাজ্যে বিজেপির ভিতরকার বিদ্রোহ প্রকাশ্যে এসে পড়ায় আশার আলো দেখছেন তৃণমূলের অনেকেও।
এমনিতেই ঝাড়খণ্ডে রামবিলাস পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙে বেরিয়ে গিয়েছে। উল্টোদিকে কংগ্রেস, আরজেডি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার জোট অটুট। ২০১৪ সালের ভোটেও, ভোট শতাংশের বিচারে যে বিজেপি অনেকটা এগিয়ে ছিল এমনটা নয়। বরং গেরুয়া শিবিরের ঘাড়ের কাছেই নিঃশ্বাস ফেলছিল কংগ্রেস-আরজেডি-জেএমএম জোট। পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, ঝাড়খণ্ডের ভোটের আগে থেকেই এমন কিছু উপসর্গ দেখা যাতে স্পষ্ট, বিজেপির ভিতরে সমস্যা রয়েছে। এমনিতেই মহারাষ্ট্রে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। শপথ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছে দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে। হরিয়ানাতেও কান ঘেঁষে সরকার গড়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের অনেকেরই বক্তব্য, এবার ঝাড়খণ্ডেও যদি বিজেপিকে এমন পরিস্থিতে পড়তে হয়, তাহলে আরও একবার প্রমাণ হয়ে যাবে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মোদীর মুখ দিয়ে বিজেপি ভোটে জিতলেও, রাজ্যে রাজ্যে বিজেপি ডাহা ফেল।