
শেষ আপডেট: 12 July 2023 07:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিকেলে নন্দীগ্রামের (Nandigram) দুটি ব্লকে ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের (WB panchayat election) ফলাফল প্রকাশ হতেই শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, এখানে বিজেপি ছিলই না। নন্দীগ্রামে পদ্ম ফুটিয়েছি। গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯টি আসনে জিতেছে বিজেপি। বাকি ৮টিতে জিতেছে তৃণমূল (দুটি ত্রিশঙ্কু গ্রাম পঞ্চায়েত তাদের দিকেই গেছে)। কিন্তু এরপর পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের ভোট গণনা শুরু হতেই যেন জবরদস্ত ধাক্কা লাগল শুভেন্দুর প্রত্যয়ে (TMC ahead of BJP)।
নন্দীগ্রামে পঞ্চায়েত সমিতির ২টি আসনের মধ্যে ১টিতে জিতেছে বিজেপি, তৃণমূল জিতেছে ১টিতে। কিন্তু জেলা পরিষদের ৫টি আসনের লড়াইয়ে তৃণমূল এগিয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের ১ নম্বর ব্লকে জেলা পরিষদে ৩টি আসনের মধ্যে ৩টিতেই জিতেছে তৃণমূল। আর ২ নম্বর ব্লকের ২টি জেলা পরিষদ আসনের ভোটে বিজেপি জিতেছে ২টিতে।
ব্যাপারটা এখানেই থেমে নেই। নন্দীগ্রামে গত বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সময় সুযোগ পেলেই শুভেন্দু, ‘১৯৫৬’ তুলে খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রীকে। তার পাল্টা হিসাবে তৃণমূল বলে, লোডশেডিংয়ের ১৯৫৬। অর্থাৎ তাঁদের দাবি ছিল, শেষবেলায় লোডশেডিং করে ১৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন শুভেন্দু। তবে এবার তৃণমূল বড় অস্ত্র পেয়ে গেল। জেলা পরিষদের ৫টি আসনের মোট ফলাফল বিচার করলে দেখা যাচ্ছে নন্দীগ্রাম বিধানসভায় ১০,৪৫৭ ভোটে পিছিয়ে পড়েছে বিজেপি।
বাংলার রাজনীতিতে নন্দীগ্রাম বলতেই অনেকের চোখে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ মনে পড়ে। কোনও প্রতীকের নাম মনে পড়ে না। কারণ, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে শুভেন্দু এমন ভাবে এই জনপদের সঙ্গে জুড়ে রয়েছেন যে সেটি তাঁর নামের সঙ্গে সমার্থক হয়ে গিয়েছে। এহেন নন্দীগ্রামের গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি অন্তত ১৩টি আসন জিতবে বলে শুভেন্দুর দাবি ছিল। কিন্তু তা হয়নি। দেখা গিয়েছে, তৃণমূল জোরালো টক্কর দিয়েছে।
আরও বড় কথা হল, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকে টক্কর দিতে মমতা-অভিষেক পাঠিয়েছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে। কুণাল কলকাতার নেতা। বাইরে থেকে নন্দীগ্রামে গিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক উচ্চতাও শুভেন্দুর মতো নয়। সেই সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ হল, নন্দীগ্রামে ভোটাভুটিতে শুভেন্দু শিবির ভোটে ছাপ্পা বা কারচুপির অভিযোগ তোলেনি। বুথের বাইরে দুই দলের মধ্যে অশান্তি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ভোট গ্রহণের সময়ে শুভেন্দু শিবির কড়া নজর রেখেছিল।
জেলা পরিষদের ফল প্রকাশের পর স্বাভাবিক ভাবে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কুণাল ঘোষ দ্য ওয়ালকে বলেন, “এই ফলাফলেও আমার আফশোস রয়েছে। আমাদের কিছু কর্মী ভোটে ঠিক মতো কাজ করেনি। অন্তর্ঘাত করেছে। তা ছাড়া সিপিএম ভোট কাটুয়ার কাজ করেছে।” কুণাল বলেন, “যেমন জেলা পরিষদের একটি আসনে তৃণমূল মাত্র ৭৬৫ ভোটে হেরেছে। অথচ সিপিএম ওখানে ১১০০-র কিছু বেশি ভোট কেটেছে।”
নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনে শুধু ভেকুটিয়াতে শুভেন্দু তথা বিজেপি ৪৮০০ ভোটের লিড পেয়েছিল। এবার জেলা পরিষদের ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে সেই ঘাটতি ৭১৮ ভোটে নেমে এসেছে।
এই ফলাফলের পর বিজেপি শিবিরের অনেকেই অভিযোগ করছেন যে পুলিশ, প্রশাসনকে দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ভোটের ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল আবার পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে, তাই যদি হয় তাহলে জেলা পরিষদে বিজেপি ২টি আসন, পঞ্চায়েত সমিতিতে ১টি আসন আর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯টি আসনে জিতল কীভাবে? বরং ভোটে দেদার টাকা বিলোনো, তৃণমূলের প্রার্থীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা, গোঁজ প্রার্থী দিয়ে ভোট কাটার প্রয়াস ইত্যাদি নিয়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে শাসক দল।
শুধু নন্দীগ্রাম নয়, একদা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বলতে অধিকারী গড় বোঝাত। শুভেন্দু যখন বিজেপিতে যখন দেন, তখন অমিত শাহ-জেপি নাড্ডাদেরও সেই ধারণা ছিল। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরে জেলা পরিষদের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ৫৬টি আসন জিতেছে তৃণমূল। বিজেপি জিতেছে ১৪টি আসনে।
কুণালকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জেলা পরিষদে জিতলেও তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি তথা শুভেন্দুকে পিছনে ফেলতে পারেনি। এটা কি হার নয়? জবাবে তৃণমূল মুখপাত্র তথা তমলুক সাংগঠনিক জেলার পর্যবেক্ষক বলেন, “আমি তো বলছি গ্রাম পঞ্চায়েতে ওদের থেকে পিছিয়ে রয়েছি। কারণ, আমাদের একাংশ কর্মী অন্তর্ঘাত করেছে। পাড়ার ভোটে পারস্পরিক রেষারেষি কাজ করেছে। কিন্তু জেলা পরিষদে ভোট দেওয়ার সময়ে মানুষ শুধু প্রতীক দেখেছে। সেখানে ক্ষুদ্র পাড়ার ঝগড়া প্রাসঙ্গিক থাকেনি। তৃণমূল আর বিজেপির প্রতীকের মধ্যে বেশি সংখ্যক মানুষ জোড়াফুলকেই বেছে নিয়েছে।”
নন্দীগ্রামে পঞ্চায়েত মিটতেই পুরনো আইসিকে ফেরানো হল, ভোটের আইসি ফিরলেন ডিআইবিতে