
শেষ আপডেট: 11 January 2023 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ঘর নির্মাণের টাকা আত্মসাতে নাম জড়াল ডানকুনির (Dankuni) এক তৃণমূল (TMC) নেতার। ডানকুনি পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ইউনুস আলি লস্কর। অভিযোগের আঙুল তাঁর বিরুদ্ধেই।
ওই পুর এলাকার বাসিন্দা মনিরা খাতুন লস্কর। তাঁর ছেলে হাবিবুল্লাহ লস্করের দাবি, ২০১৯ সালে তাঁর মা মনিরা লস্করের নামে বাড়ি তৈরির আবেদন জানানো হয় (Awas Yojana)। পুরসভা থেকে জায়গার মাপজোক করে অনুমোদন মেলে। এরপরে সরকারের থেকে তাঁর মায়ের অ্যাকাউন্টে ষাট হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি বলেন, “অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর একদিন মাকে ব্যাঙ্কে নিয়ে যায় ইউনুস আলি লস্করের ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট’ কামরুদ্দিন লস্কর। সঙ্গে ছিল বাড়ি তৈরির এক ঠিকাদার। ষাট হাজার টাকা তুলে কামরুদ্দিন ওই ঠিকাদারকে দিয়ে দেয়।” ওই ঠিকাদার সাঁতরাগাছির বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন হাবিবুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, “ওই ঠিকাদার প্রাক্তন কাউন্সিলর ইউনুস আলি লস্করের মাধ্যমেই এসেছিল।”
২০১৯ সালে টাকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনও একটা ইটও গাঁথা হয়নি। হাবিবুল্লাহর অভিযোগ, “বছরের পর বছর পার হলেও কোনও কাজ হয়নি। টাকা ফেরত চাইলেও নানা অজুহাত দেওয়া হয়েছে।” হাবিবুল্লাহরা এখন চাইছেন বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হোক। পুরসভার বর্তমান কাউন্সিলর বা পুরপ্রধান উদ্যোগ নিক। এজন্য ডানকুনি পুরসভার পুরপ্রধান হাসিনা শবনমের কাছে পুরো বিষয়টি লিখিত আকারে জানিয়েছেন উপভোক্তা মনিরা খাতুন। তিনি প্রাক্তন কাউন্সিলর ও কাউন্সিলরের অ্যাসিস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন। এছাড়াও ‘এক ডাকে অভিষেক’-এর হেল্পলাইনে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনুস আলি লস্কর। তিনি বলেন, “ভিত্তিহীন অভিযোগ। প্রথমেই বলেছিলাম যার বাড়ি তিনি নিজে করুন। ঠিকাদারকে দিতে নিষেধ করেছিলাম। ওদের সুবিধা মতো ওরা যা ভাল বুঝেছে তাই করেছে। প্রত্যেক ওয়ার্ডেই ঠিকাদার কিছু কিছু কাজ করেছে।” এর মাঝেই পাল্টা প্রশ্ন করেন, টাকাটা কে নিয়েছে সেটা জেনে আসুন। আমার সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। এরপরই বলেন, “কাউন্সিলররে পিএ হয় কোনওদিন শুনিনি। আমি পঁচিশ বছর ধরে পার্টি করছি। তবে ঠিকাদার টাকা ফেরত দেবে বলেছে। একশ শতাংশ ফেরত দেবে।”
ডানকুনির পুরপ্রধান হাসিনা শবনম জানিয়েছেন, “একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আবাস প্রকল্প শুরুর সময়ই ফ্লেক্স বানিয়ে নিজের বাড়ি নিজে করানোর জন্য প্রচার চালানো হয়েছিল। উপভোক্তাদেরও ডেকে ঠিকাদারকে না দিয়ে নিজেদেরই বাড়ি তৈরির জন্য বোঝানো হয়েছিল।”
ছানাদের নিয়ে হাঁটছে কলারওয়ালির মেয়ে টি৪, পেঞ্চ ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রের ভিডিও ভাইরাল