দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যুর সিবিআই তদন্তের আর্জি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিধায়কের পরিবারের হাইকোর্টের বিচারপতি শিবকান্ত প্রসাদের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা করেছিল। সোমবার শুনানির পর বিচারপতি শিবকান্ত প্রসাদ তা খারিজ করে দিয়েছেন। পরিবারের তরফে আইনজীবী ব্রজেশ ঝাঁ জানিয়েছেন, সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। তাঁরা ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করবেন।
আগেই রাজ্য সরকার বিধায়ক মৃত্যুর তদন্তভার সিআইডিকে দিয়েছিল। এদিন বিচারপতি নির্দেশ দেন, এডিজি সিআইডিকে এই আমলার তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আদালত বলে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে আরও একটি রিপোর্ট দেবেন।
গত ১৩ জুলাই সকালে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ ব্লকের বালিয়ায় দেবেন মোড়ের কাছে একটি মোবাইলের দোকানের বারান্দা থেকে দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। দীর্ঘদিনের সিপিএম নেতা দেবেন্দ্রনাথবাবু ২০১৬ সালে সিপিএমের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারপর ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। এই ঘটনাকে সরাসরি রাজনৈতিক হত্যা বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।
যদিও বিধায়কের স্ত্রী চাঁদিমা রায়ের অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন এই খুনের ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতেই আত্মহত্যার ঘটনা বলে সাজাচ্ছে। সরকারের রিপোর্ট মানতে রাজি নন গ্রামবাসীদের একাংশও। তাঁদের বক্তব্য, হাত বাঁধা অবস্থায় কী করে একজন আত্মহত্যা করতে পারেন? তাঁরাও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ১৩ জুলাই রাতে বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃতদেহের ময়নাতদন্তের পর ১৪ তারিখ সেই রিপোর্ট জেলা পুলিশের হাতে তুলে দেন রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারপরেই সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব। রাজ্য সরকার এরকম অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় যতদূর তদন্ত করা উচিত ততদূরই তদন্ত করবে বলেও জানান তিনি। যদিও প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশ জানিয়েছিল, বিধায়কের ঝুলন্ত দেহ থেকে সুইসাইড নোট মিলেছে। তাতে কয়েক জনের নাম লেখা ছিল। ইতিমধ্যে একজনকে আটকও করেছে পুলিশ।