
শেষ আপডেট: 21 November 2023 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ময়নাগুড়ি: ধানখেতের জমির মধ্যে পড়ে রয়েছে মৃতদেহ। স্থানীয় বাসিন্দারা যুবককে চিনতে পেরে বাড়িতে মাকে খবর দিতে এসেছিলেন। কিন্তু ঘরে ঢুকে মায়ের অবস্থা দেখে শিউরে ওঠেন তাঁরা। বিছানায় হেলান দিয়ে রয়েছে মায়ের নিথর দেহ। মঙ্গলবার সকালে দুটি পৃথক জায়গা থেকে মা ও ছেলের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম পরিমল বর্মন। বছর পঁয়তাল্লিশের পরিমল হোমগার্ডের চাকরি করতেন। সেই সুবাদে এলাকায় তাঁর পরিচিতি ছিল। অন্যদিকে, তাঁর মা সবিতা বর্মন (৬৫) ছিলেন গৃহবধূ। এদিন ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে ময়নাগুড়ি ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষি জমি থেকে। আর ময়নাগুড়ির ১২ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁদের বাড়ি থেকে সবিতাদেবীর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মা ও ছেলে দুজনেই এই বাড়িতে থাকতেন। এমন মর্মান্তিক ও আকস্মিক ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সুত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে প্রথমে ময়নাগুড়ির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কৃষি জমিতে পরিমল বর্মনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন। এরপর খবর দেওয়া হয় ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে। তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। প্রতিবেশী নিরবালা রায় ছেলের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা মাকে জানাতে তাঁদের বাড়িতে যান। কিন্তু ঘরে ঢুকে তিনি দেখতে পান, মেঝেতে বসে বিছানায় মাথা হেলান দিয়ে রয়েছেন সবিতাদেবী। অনেক ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। দেহে হাত দিতেই তিনি আঁতকে ওঠেন। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন অন্যান্য পড়শিরাও। খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। খুন নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য আছে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল নন্দী জানিয়েছেন, পরিমল প্রায়ই ভোরে মাছ ধরতে বের হতেন। তেমনি হয়তো আজও বেরিয়েছিলন। তাঁকে খুন করা হয়েছে বলেই অনুমান তাঁর। ঘটনাটির প্রসঙ্গে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তুহিন চৌধুরী বলেন, “এই পরিবার আমার খুবই কাছের। ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি চাই এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।”