শেষ আপডেট: 30 April 2020 10:47
তবে অনেকেই বলছেন,, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে হাসপাতালের একটি বিশেষ অর্ডার এবং তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরোধীদের তরজা। এ নিয়ে বহরমপুরের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, "শুনেছিলাম হাসপাতালের একটি অর্ডার সামনে এসেছিল কয়েক দিন আগে। রোগীর কোভিড হলেও তা ডেথ সার্টিফিকেটে না লেখার কথা সেই অর্ডারে বলা হয়েছে বলে শুনেছি। তার পরেই সুপারকে সরানো হল।"
সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ হাসপাতালের একটি অর্ডার প্রকাশ্যে চলে আসে সম্প্রতি। সেই অর্ডারে দেখা গেছে, হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডিউটির রোস্টার ঠিক করা হয়েছে এবং তার নীচে লেখা রয়েছে, কোনও রোগীর দেহে কোভিড পজিটিভ থাকলেও, ডেথ সার্টিফিকেটে সেটা উল্লেখ করার দরকার নেই।
এই অর্ডারটি প্রকাশ্যে আসার পরেই তুলকালাম পড়ে যায় সব মহলে। প্রসঙ্গত, এই অর্ডারের ছবি টুইটারে পোস্ট করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। ডেথ সার্টিফিকেটে কোভিড উল্লেখ না করার জায়গাটি দাগ দিয়ে চিহ্নিত করে তিনি লেখেন, "মুর্শিদাবাদের এই সরকারি নির্দেষে স্পষ্ট লেখা আছে, যে কোভিড ১৯ কারও থাকলেও তা উল্লেখ না করতে। মমতা সরকার বলুক, এই নির্দেশটা কি ভুল বা ভিত্তিহীন? তা না হলে আমি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে কোর্টে চ্যালেঞ্জ করব।" দেখুন সেই টুইট।
https://twitter.com/SuPriyoBabul/status/1255355143236829185
এই টুইঠের পরেই শোরগোল শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি সত্যিই কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করতে চাইছে রাজ্য? দিন কয়েক আগেই এ বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি দাবি করছিলেন, সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি মৃত্যু হচ্ছে এ রাজ্যে, যা মমতা সরকার চেপে রাখছে। গোপনে দেহ সৎকার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।
গতকাল তিনিও মুর্শিদাবাদ হাসপাতালের এই অর্ডার ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, "মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ সুপার নিজে লিখিত ভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন যে করোনা ভাইরাস আক্রমণে মারা গেলেও রোগীর death certificate এ লেখা যাবে না ।এর মাধ্যেমে ICMR এর নির্দেশিকা সরাসরি অমান্য করা হচ্ছে। এর ফলে কখনোই বাস্তব চিত্র সামনে আসবে না।" এই লেখার সঙ্গে অর্ডারের ছবি এবং আইসিএমআর-এর গাইডলাইনও পোস্ট করেছেন তিনি।
https://www.facebook.com/dilipghoshbjp/posts/2850658658352357
এর পরেই আজ, বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি অর্ডার এল মুর্শিদাবাদ জেলা হাসপাতালের সুপারকে বদলি করার। সঙ্গত কারণেই এই দুইয়ের মধ্যে যোগসূত্র দেখছেন অনেকেই। যদিও সরকার তথা স্বাস্থ্যভবন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ।