
শেষ আপডেট: 30 July 2023 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: শনিবার ছিল মহরম (Muharram)। এদিনে প্রতি বছর সম্প্রীতির ছবি উঠে আসে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) পাহাড়পুর গ্রামপঞ্চায়েত কারবালার মাঠে।
মন্দিরে পুজো দিয়ে এরপর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মহরমের লাঠি খেলায় মাতেন মুসলিমরা। লোকমুখে কথিত আছে, বহু বছর আগে এক হিন্দু পরিবার এই জমিটিতে গ্রাম ঠাকুরের মন্দির নির্মাণ করে জমিটি মন্দির কমিটির হাতে তুলে দেয়।
সেইসময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে মহরম খেলার মাঠ ছিল না। তাই মহরম উদযাপন জন্য স্থানীয় মন্দির কমিটির কাছে মাঠটি চেয়ে ছিল মুসলিমরা। সেখান থেকে অনুমতি পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য মহরমের দিন গ্রাম ঠাকুরের পুজো দিয়ে মহরমে লাঠি লেখা শুরু করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই দিনেও স্থানীয় হিন্দুরাও এই লাঠি খেলায় সামিল হয়েছিলেন। সেই থেকে এই রেওয়াজ আজও চলে আসছে।
বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা প্রাক্তন প্রধান কৃষ্ণ দাস। স্থানীয় পঞ্চায়েত বিমলা ছেত্রী রায় ও জেলাপরিষদের নব নির্বাচিত সদস্য প্রণয়িতা দাস। এদিন পাহাড়পুর কারবালা মহরম উৎযাপন কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে ১৪ টি দল লাঠি খেলায় অংশগ্রহণ করে।
মন্দিরের সেবাইত হরেন পাল বলেন, 'আমদের এখানে হিন্দু মুসলিম নিয়ে কোনও ভেদাভেদ নেই। আমরা এখানে সকলে মিলেমিশে থাকি। এই গ্রামে যে কোনও সম্প্রদায়ের মানুষেরা বিয়ে,অন্নপ্রাশন যাই হোকনা কেন সেই উপলক্ষে এই মন্দিরে পুজো দেন। মহরম উপলক্ষেও জাতিধর্ম নির্বিশেষে এখানে পুজো দেন স্থানীয়রা।'
মহরম কমিটির বিশেষ উপদেষ্টা মকবুল হোসেন বলেন, 'এই গ্রামে হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ নেই। আমরা সকলে মিলেমিশে থাকি। তাই আমাদের মহরমের লাঠি খেলায় হিন্দুরাও অংশ গ্রহণ করেন।'
আরও পড়ুন: মাওবাদীরা অপহরণ করেছিল দুই পুলিশকর্মীকে, ১৪ বছর ধরে ছেলেদের ফেরার আশায় বৃদ্ধা মায়েরা